পাকিস্তান সরকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সম্প্রতি বিবৃতি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। দেশটি অভিযোগ করেছে, আফগান ক্রিকেটারদের মৃত্যুর ঘটনায় আইসিসির মন্তব্য ‘অযাচাইকৃত, পক্ষপাতদুষ্ট এবং অকালপক্ব’, যা বিশ্ব ক্রিকেটে রাজনীতিকরণ ঘটাতে পারে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর আস্থা নষ্ট করছে।
গতকাল রবিবার রাতে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টে লিখেছেন, “সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদের প্রধান ভুক্তভোগী হিসেবে পাকিস্তান আইসিসির নির্বাচিত, পক্ষপাতদুষ্ট ও অকাল মন্তব্যকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। এই মন্তব্যে তিন আফগান ক্রিকেটারের মৃত্যুর ‘বিতর্কিত অভিযোগকে’ নিশ্চিত সত্য হিসেবে তুলে ধরেছে।” মন্ত্রী বলেন, “আইসিসি কোনো স্বাধীন যাচাই ছাড়াই এমন দাবি করেছে। পাকিস্তান এই বর্ণনাকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাখ্যান করছে এবং অবিলম্বে সংশোধনের আহ্বান জানাচ্ছে।”
তিন ক্রিকেটারের নিহত হওয়ার ঘটনার জেরেই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য ত্রিদেশীয় সিরিজ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয় আফগানিস্তান। এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন আফগান ক্রিকেটাররা, যারা জানিয়েছেন— খেলাধুলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা ঠিক নয়।
পাকিস্তানি মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, আইসিসি কোনো প্রমাণ সংগ্রহের চেষ্টা না করেই এক ধরনের ‘ইকো চেম্বার’ তৈরি করেছে। “আইসিসির বিবৃতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর চেয়ারম্যান জয় শাহ একই দাবি পুনরাবৃত্তি করেন, পরে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) সেই বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বিবৃতি দেয়— যেখানে নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি,” বলেন তারার।তারার মতে, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে এক ধরনের ‘সমন্বিত প্রতিধ্বনি তৈরি করার চেষ্টা’।
তিনি অভিযোগ করেন, “আইসিসির বর্তমান নেতৃত্বে এমন অনেক অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি হয়েছে যা পাকিস্তান ক্রিকেটকে অসমভাবে প্রভাবিত করেছে। সম্প্রতি ‘হ্যান্ডশেক বিতর্কে’ এশিয়া কাপের ম্যাচ বিলম্বিত হওয়াও তারই উদাহরণ।”
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এসব ঘটনায় আইসিসির নিরপেক্ষতা নিয়ে বৈশ্বিক আস্থা নষ্ট হয়েছে। তিনি সতর্ক করেন, “একটি বৈশ্বিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত নয় কোনো পক্ষপাতদুষ্ট বর্ণনাকে এগিয়ে দেওয়া কিংবা বিতর্কিত ম্যাচ ব্যবস্থাপনা পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া।” তারার বলেন, “রাজনীতি যেন ক্রিকেটে প্রবেশ না করে— পাকিস্তান সবসময়ই এই অবস্থান নিয়েছে। আইসিসির উচিত স্বাধীনতা ও খেলার স্পিরিট রক্ষা করা।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, আইসিসি যেন অন্যের প্রভাবে অযাচাইকৃত দাবি প্রচার না করে, কোনো পক্ষকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে না দেয় এবং জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো পক্ষপাত না দেখায়।
শেষে তারার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য—“আইসিসির বর্তমান চেয়ারম্যান যেহেতু ভারতের নাগরিক, পাকিস্তান আশা করে তিনি সংস্থার নিরপেক্ষতা, ন্যায়বোধ ও আন্তর্জাতিক মান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবেন— যাতে একটি খেলাধুলার নিয়ন্ত্রক সংস্থা কখনও সহিংস রাজনৈতিক বর্ণনায় জড়িত না হয়।”
এর একদিন আগে শনিবার আতাউল্লাহ তারার জানান, পাকিস্তান উত্তর ও দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে সন্ত্রাসী গুল বাহাদুর গোষ্ঠীর আস্তানায় ‘প্রেসিশন স্ট্রাইক’ চালিয়েছে। “নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬০-৭০ জন খারজি (সন্ত্রাসী) ও তাদের নেতৃত্বকে নরকে পাঠানো হয়েছে,”— বলেন তিনি।
সীমান্তপারের সন্ত্রাসী হামলা বাড়ায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। আফগান তালেবান সরকার আফগান মাটিতে সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনিচ্ছুক— এমন অভিযোগও করেছে ইসলামাবাদ।
৭ মাস পর ফিরে রোহিত করলেন ৮ রান, কোহলি মারলেন ‘ডাক’
৩৮ বছর বয়সে গোল্ডেন বুট জিতলেন মেসি, ৪০ বছরের রোনালদোর অর্জন কেমন?