ক্রয়ে মন্ত্রণালয়ের সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বারোপ

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০৯ এএম

বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) সরকারি ক্রয় বিষয়ে মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চপদস্থ নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছে। গতকাল সোমবার জাতীয় সরকারি ক্রয় প্রশিক্ষকদের সঙ্গে পিপিআর, ২০২৫-এর আলোকে সরকারি ক্রয় প্রশিক্ষণ কারিকুলাম উন্নয়ন বিষয়ক এক কর্মশালায় এ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) নবনিযুক্ত সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি উল্লেখ করেন, মন্ত্রণালয়গুলোকে সরকারি ক্রয় বিষয়ে শক্তিশালী করতে পারলে বিভাগ ও অধিদপ্তরও শক্তিশালী হবে। তেমনি সচিবদের যদি এ বিষয়ে দক্ষতা থাকে, তাহলে কর্মকর্তাদেরও ধারণা বৃদ্ধি পাবে।

আইএমইডি সচিব বলেন, মন্ত্রণালয় পর্যায়ে সরকারি ক্রয় বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণার ঘাটতি রয়েছে। এসব ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে পারলে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও অগ্রগতি অর্জন সম্ভব। দুই ধাপে পরিকল্পিত কর্মশালার প্রথম দিনে মোট ৭৩ জন জাতীয় ক্রয় প্রশিক্ষকের মধ্যে প্রথম দিন ৩০ জন উপস্থিত ছিলেন। আগামী ২৬ অক্টোবর বাকিদের নিয়ে দ্বিতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

বিপিপিএর পরিচালক ও জাতীয় ক্রয় প্রশিক্ষক শাহ ইয়ামিন-উল ইসলাম পিপিআরে নতুন ও পরিবর্তিত বিধিসমূহের ওপর একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা তুলে ধরেন। উপস্থিত জাতীয় ক্রয় প্রশিক্ষকরা বিভিন্ন বিধির বিষয়ে তাদের পরামর্শ দেন।

জাতীয় ক্রয় প্রশিক্ষকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, সাবেক সচিব ও পূর্বতন সিপিটিইউর মহাপরিচালক ফারুক হোসেন, পূর্বতন সিপিটিইউর মহাপরিচালক অমূল্য কুমার দেবনাথ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাসুদ আকতার খান এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আকনুর রহমান।

বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ২০২৫ সালের পিপিআরে জাতীয় ক্রয় প্রশিক্ষকদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং দেশে একটি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় একটি করে প্রকিউরমেন্ট ইউনিট প্রতিষ্ঠার বিষয়ও পিপিআরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ জানান, সরকারি ক্রয় বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সব সচিবদের জন্য বিপিপিএ একটি কর্মশালা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সংশোধিত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০৬ এবং নতুন পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ যুগপৎ কার্যকর করা হয়েছে। জাতীয় ক্রয় প্রশিক্ষকরা যাতে পিপিআর, ২০২৫ সম্পর্কে প্রশিক্ষণে অভিন্ন ও একই ধরনের বার্তা প্রদান করেন তা নিশ্চিত করাও এ কর্মশালার একটি উদ্দেশ্য ছিল। একই সঙ্গে তাদের পরামর্শ নিয়ে চলমান সরকারি ক্রয় প্রশিক্ষণের মডিউলগুলোতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত