রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) থেকে ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনে ব্যর্থ রপ্তানিকারক এবং ব্যাংকের সাধারণ ঋণের অর্থ দিয়ে ইডিএফের খেলাপি দায় পরিশোধ করা হয়েছে, এমন রপ্তানিকারকরা এখন থেকে নতুন করে এ তহবিলের সুবিধা পাবেন না। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক এ নির্দেশনা জারি করে।
ইডিএফের ঋণ কার্যক্রম পরিচালনায় এতদিন বিভিন্ন সময়ে জারি করা নির্দেশনাগুলো একত্র করে একটি সমন্বিত ‘মাস্টার সার্কুলার’ জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে ইডিএফের সুদহার, ঋণের মেয়াদ, পুনঃঅর্থায়ন, অর্থায়নসীমাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ইডিএফ ঋণের সুদহার ৬ মাস মেয়াদি বেঞ্চমার্ক হারের সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বেঞ্চমার্ক হারের চেয়ে ৫০ বেসিস পয়েন্ট বেশি সুদে তহবিল সরবরাহ করবে। অন্যদিকে, ব্যাংকগুলো রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে ৬ মাস মেয়াদি বেঞ্চমার্ক হারের সর্বোচ্চ ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বেশি সুদ নিতে পারবে।
ইডিএফ ঋণ পরিশোধের স্বাভাবিক মেয়াদ ১৮০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নেওয়া হলে এ মেয়াদ সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত বাড়ানো যাবে।
সার্কুলারে ইডিএফ সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রেও কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় দেশে না আনলে কিংবা বাণিজ্যিক ব্যাংকের সাধারণ ঋণের মাধ্যমে ইডিএফের খেলাপি দায় পরিশোধ করা হলে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক নতুন করে ইডিএফ সুবিধা পাবেন না।
তবে আটকে থাকা রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসন করা হলে অথবা ডিসকাউন্ট কমিটির মাধ্যমে অব্যাহতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক পুনরায় ইডিএফ সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন।
ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি এবং বাল্ক আমদানির ক্ষেত্রে খাতভিত্তিক অর্থায়নসীমা আগের মতোই রাখা হয়েছে। খাতভেদে ইডিএফের আওতায় সর্বোচ্চ ২ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাল্ক আমদানির ক্ষেত্রে অর্থায়নসীমা ১০ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ২ কোটি মার্কিন ডলার পর্যন্ত নির্ধারিত রয়েছে।
তবে নতুন করে একটি সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে খাত নির্বিশেষে যেকোনো যোগ্য বাল্ক আমদানির বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইডিএফ পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাওয়া যাবে। যেসব ব্যবসায়ী বাল্ক ও ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি দুই ব্যবস্থার মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানি করেন, তারা কেবল একটি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন নির্ধারিত সীমার আওতায় সুবিধা নিতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইডিএফ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলাদা আলাদা সার্কুলার ও নির্দেশনা জারি হওয়ায় ব্যাংক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতো। নতুন মাস্টার সার্কুলারের মাধ্যমে সব নির্দেশনা এক জায়গায় সংকলিত হওয়ায় ইডিএফ ঋণের আবেদন, পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানো এবং অন্যান্য পরিচালনাগত জটিলতা কমবে বলে মনে করছেন তারা।