বাড়ি ভাড়া বাড়ানোর ঘোষণায় শ্রেণিকক্ষে ফিরছেন শিক্ষকরা

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:১৯ এএম

বাড়ি ভাড়া ভাতা বাড়িয়ে মূল বেতনের ১৫ শতাংশ করার সিদ্ধান্তে আন্দোলন প্রত্যাহার করে ক্লাসে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের দশম দিনে মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়ে আদেশ জারির পর আন্দোলনকারী শিক্ষক জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বুধবার থেকে শ্রেণিকক্ষে ফেরার ঘোষণা দেন।

গতকাল সকাল থেকেই সচিবালয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরারসহ অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে দাবি দাওয়া নিয়ে আলোচনা করছিলেন আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। দুপুর পৌনে ১ টায় শিক্ষা উপদেষ্টা এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজীর হাতে অর্থ বিভাগের সম্মতিপত্র হস্তান্তর করেন।

এদিকে সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করায় আন্দোলনরত শিক্ষকরা নব উদ্যমে শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একইসঙ্গে তিনি আশাবাদী যে,তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে অবদান রাখবেন। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীরা এই টাকা পাবেন দুই ধাপে। ১৫ শতাংশের মধ্যে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে সাড়ে ৭ শতাংশ বা ন্যূনতম ২ হাজার টাকা। আর বাকি সাড়ে ৭ শতাংশ আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে বলে সম্মতি জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসাভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা করা এবং এমপিওভুক্ত কর্মচারীদের উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের ব্যানারে গত ১২ অক্টোবর শুরু হওয়া শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলনের দশম দিনে তাদের বাড়ি ভাড়া ভাতা আবারও পুনর্নির্ধারণ করা হলো। তবে শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ও উৎসব ভাতা অপরিবর্তিত থাকছে।

অর্থ বিভাগ বলছে, ‘পরবর্তী বেতন স্কেলে বর্ণিত অতিরিক্ত সুবিধাটি সমন্বয় করতে হবে। এমপিও নীতিমালা ও সরকারের নির্দেশনা অনুসারে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগের শর্ত পূরণ করতে হবে। বাড়ি ভাড়া ভাতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীরা কোনো বকেয়া পাবেন না।’

শিক্ষক-কর্মচারীদের এ ভাতা দেওয়ার ক্ষেত্রে আর্থিক বিধি-বিধান অবশ্যই পালন করতে হবে বলে জানিয়ে অর্থ বিভাগ বলছে, এ ভাতা সংক্রান্ত ব্যয়ে ভবিষ্যৎ কোনো অনিয়ম দেখা দিলে বিল পরিশোধকারী কর্র্তৃপক্ষ অনিয়মের জন্য দায়ী থাকবেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রথম দফায় ৫০০ টাকা বাড়িয়েছিল সরকার; তবে গত ৫ অক্টোবর এই ঘোষণা প্রকাশ্যে এলে শিক্ষকরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের ডাক দেন। এরপর গত ৬ অক্টোবর এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়ি ভাড়া ভাতা অন্তত দুই হাজার বা তিন হাজার টাকা করার প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১২ অক্টোবর থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন।

আন্দোলনের মধ্যেই ১৯ অক্টোবর মূল বেতনের ৫ শতাংশ বা ন্যূনতম ২ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া ভাতা নির্ধারণ করা হয় শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য। তবে শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া ভাতা নির্ধারণে নিজেদের দাবিতে অনড় অবস্থান নেন।আন্দোলনের দশমতম দিনে ভাতা ফের পুনর্নির্ধারণ করল সরকার।

শিক্ষকরা নব উদ্যমে শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন আশা প্রধান উপদেষ্টার :

সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি করায় আন্দোলনরত শিক্ষকরা নব উদ্যমে শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একইসঙ্গে তিনি আশাবাদী যে তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে অবদান রাখবেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দাবি যৌক্তিক বলে মনে করে। তবে বাস্তবতা হলো, ১৫ বছরের সীমাহীন দুর্নীতি ও লুটপাটে বিধ্বস্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গতিশীল হলেও এখনই মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির মতো সামর্থ্যে অর্থনীতিতে ফেরেনি। তাই সরকারকে বাস্তবতার নিরিখে এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত