ধর্ষকের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার নারীর বিয়ে ঠেকাতে হাইকোর্টে রিট

আপডেট : ২২ অক্টোবর ২০২৫, ০৭:০৮ পিএম

ধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে অভিযুক্ত ধর্ষকের বিয়ে বন্ধে নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ রিট আবেদন দাখিল করা হয়েছে।

বুধবার (২২ অক্টোবর) সিরাজগঞ্জের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রাকিবুল হাসান এই রিটটি দায়ের করেন।

রিট আবেদনে বিবাদী করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র, আইন, নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিবদের, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), কারা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে।

রিটকারী জানান, বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শিগগিরই আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে।

রিটে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে গায়ক মাইনুল আহসান নোবেল ও তার বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলার বাদীর বিয়ের ঘটনা। 

মামলাটি এখনো বিচারাধীন অবস্থায় থাকতেই কারা কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে ওই বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়, আদালতের অনুমতির পর কারা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়, যা সংবাদমাধ্যমে নোবেলের কোনো অর্জনের মতো করে প্রচার করা হয়েছে— এমন ধারণা সৃষ্টি হয়েছে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে।

আবেদনে আরও বলা হয়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; অতীতেও একাধিকবার কারাগার বা আদালত প্রাঙ্গণে ধর্ষণের শিকার নারী বা কন্যাশিশুর সঙ্গে অভিযুক্ত ধর্ষকের বিয়ে দেওয়ার নজির রয়েছে। 

আবেদনকারীর প্রশ্ন, “এমন অমানবিক ও আইনি বিচ্যুতির উদাহরণ আর কতদিন দেখা হবে?”

রিট আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ধর্ষণের মামলায় বিয়ে ঘটিয়ে অপরাধীদের সামাজিক ও আইনগত বৈধতা দেওয়ার প্রবণতা বেড়ে চলেছে। 

বিয়ের মাধ্যমে আসামিরা সহজেই জামিন বা অব্যাহতি পেয়ে যায়, কখনও সালিশের মাধ্যমে, কখনও জোরজবরদস্তিতে বা টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। ফলে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অপরাধীরা উৎসাহ পাচ্ছে একই ধরনের অপরাধ পুনরাবৃত্তিতে।

রিটে জোর দিয়ে বলা হয়েছে, “ধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে অভিযুক্তের বিয়ে কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না। এমন বিয়ে অপরাধকে বৈধতা দেয় না, বরং তা আইনের প্রতি অবমাননা।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত