ইংলিশ চ্যানেল হয়ে বিপজ্জনকভাবে অভিবাসীদের পারাপার ঠেকাতে সমুদ্রপথে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে ফ্রান্স—বিবিসিকে দেওয়া একাধিক সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
ফ্রান্সের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নেতৃত্বের পরিবর্তনকে এ অবস্থার মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে যুক্তরাজ্যের সরকারের অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলার প্রচেষ্টা বড় ধাক্কা খাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের বৈঠকে ফ্রান্স প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল নতুন সামুদ্রিক নীতির অধীনে টহল নৌকাগুলো চ্যানেলে প্রবেশ করা অবৈধ নৌকাগুলো আটকাবে। কিন্তু ফরাসি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ জানায় বিষয়টি এখনও পর্যালোচনায় আছে।
এরই মধ্যে ফ্রান্সের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রেতায়ো পদ হারানোর ফলে পরিকল্পনাটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আরও কমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমুদ্রে এমন অভিযান চালানো জীবনহানির ঝুঁকি বাড়াবে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ফরাসি পুলিশ ইউনিয়ন জানিয়েছে, সমুদ্রে প্রবেশ করে নৌকা আটকানোর প্রস্তাব আপাতত স্থগিত রয়েছে। বর্তমানে কর্মকর্তারা কেবল অগভীর জলে বিপদে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার কাজে সীমাবদ্ধ।
তবে ফ্রান্স এখনো উপকূলজুড়ে টহল ও পাচারকারীদের ধরতে স্থলভিত্তিক অভিযান চালাচ্ছে, যার বড় অংশের ব্যয় বহন করছে যুক্তরাজ্য।এদিকে প্রায় প্রতিদিনই ডানকার্কের উপকূল থেকে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই অবৈধ নৌকা যাত্রা করছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছে ছত্রিশ হাজারেরও বেশি মানুষ।
‘দেশের অগ্রযাত্রায় এখন নির্বাচিত সরকার জরুরি’