নাসিরনগরে ৭ ভিক্ষুক পেলেন বিকল্প জীবিকার উপহার

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:৩৬ পিএম

অভাবের তাড়নায় একসময় দুই সন্তানকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছিলেন নাসিরনগরের লালন মিয়া। আজ সেই লালনের হাতেই তুলে দেওয়া হলো ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা-ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে স্বনির্ভর জীবনের পথে ফেরার প্রতীক হিসেবে।

সরকারের ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় লালন মিয়াসহ ৭ ভিক্ষুক পেলেন নতুন জীবিকার উপকরণ। কেউ পেলেন ছাগল, কেউ পেলেন ভ্যান, আবার কেউ পেলেন ছোট দোকান করার সামগ্রী। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপকার ভোগীদের হাতে এসব উপকরণ তুলে দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফাহিমুল আরেফিন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কেএম বশির উদ্দিন তুহিন, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক সবুজসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবা কর্মীরা।

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভিক্ষুকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এবার উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সাতজনের মধ্যে ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে- বুড়িশ্বর ইউনিয়নের লালন মিয়াকে দেওয়া হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, আয়েশা বেগমকে প্লাস্টিক সামগ্রী বিক্রির জন্য ভ্যান, হোসনা বেগমকে মুদি দোকানের মালামাল, জয়রানী দেবনাথ ও রুপবানু বেগমকে তিনটি করে ছাগল, বিষ্ণু সরকারকে দেওয়া হয়েছে দুই মটকা সিদল, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রুশন আলী পেয়েছেন মুদি দোকানের মালামাল।

উপকরণ পেয়ে আবেগে ভেসে যান লালন মিয়া। তিনি বলেন, অভাবের কারণে দুইটা সন্তান বিক্রি করছিলাম। এখন সরকার আমারে রিকশা দিছে। এই রিকশা চালাইয়া আমি পরিবার লইয়া বাঁচমু। ভিক্ষা করন লাগব না। 

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রুশন আলী বলেন, ২০ বছর ধইরা ভিক্ষা কইরা সংসার চালাইছি। কেউ সাহায্য করে নাই। সমাজসেবা অফিস এখন মাল কিনা দিছে, আমার বউ দোকান চালাইব। আল্লাহ চাইলে আর ভিক্ষা করন লাগব না।

ইউএনও শাহীনা নাছরিন বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি কোনো পেশা নয়, এটি সামাজিক অভাবের প্রতিফলন। আমরা চাই কেউ যেন ভিক্ষা না করে, নিজের পরিশ্রমে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে। এই কর্মসূচি সেই লক্ষ্যেই নেওয়া।  

তিনি আরো বলেন, ভিক্ষুকদের কর্মে ফেরাতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান, দোকানের মালামাল ও অন্যান্য উপকরণ প্রদান করা হয়েছে। বিতরণকৃত উপকরণগুলো যেন সঠিকভাবে ব্যবহার হয়, তা নিয়মিত তদারকি করা হবে। যারা আন্তরিকভাবে ব্যবসা শুরু করবে, তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত