গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গভীর রাতের টিনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে জমি জবর-দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার সকালে কালিয়াকৈর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার আটাবহ ইউনিয়নের হিজলহাটি মৌজায় আরএস ১৮২ নং খতিয়ানে আরএস ৩৫৬ নং দাগে ৩৮২ শতাংশ জমি পৈত্রিক ওয়ারিশ ও ক্রয় সূত্রে মালিক হয়েছিলেন মৃত দারগ আলী মন্ডল। কিন্তু তিনি জীবদ্দশায় তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন বোনের নামে দলিল করে দেন। তিনি মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী ও সন্তানরা দীর্ঘ বছর ধরে জমি ভোগ-দখল করে আসছিলেন। সেখান থেকে ১১৭ শতাংশ তার এক ছেলে হাসমত আলী মন্ডল, দুই মেয়ে খোরশেদা আক্তার ও লাইলী বেগম একটি কারখানায় ভাড়া দেন। এ লক্ষ্যে তারা জমিতে টিনের বেড়া দিয়ে সীমানা প্রাচীর তৈরি করেন। কিন্ত লাল মিয়া, মতিউর রহমান, দুলু মিয়া, বিল্লাল হোসেন, সুমেদ মন্ডল ও তাদের সন্তানরা জমি নিজেদের দাবি করে জবর-দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এ লক্ষ্যে তারা বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জমির টিনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলেন।
ভুক্তভোগী হাসমত আলী মন্ডল, তার ভাই আব্দুল হালিম বলেন, পৈত্রিক ও দলিল সূত্রে ওই জমি আমাদের নামে খাজনা-খারিজ করা আছে। সে অনুযায়ী আমরাও ভোগ-দখলে আছি। এর মধ্যে ১১৭ শতাংশ জমি এক ভাই ও দুই বোন মিলে ১০ বছরের জন্য কারখানায় ভাড়া দিয়েছে। কিন্তু তারা গভীর রাতে আমাদের টিনের সীমানা প্রাচীর ভেঙে জমি জবর-দখলের চেষ্টা করে।
এ সময় প্রতিবেশী রিয়াজ উদ্দিন ও বিপুল হোসেনসহ অনেকে জানান, আমরা তো দেখে আসছি ওই জমি হাসমত আলীরা ভোগ-দখলে আছে। কিন্তু রাতে তাদের সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলা হয়েছে।
সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলার বিষয়টি স্বীকার করে অভিযুক্তদের মতিউর রহমান জানান, ওই জমি আমাদের শরীরিক সম্পত্তি। আমরাও ওই জমির মালিক। ওই জমি নিয়ে আমাদের বাটোয়ারা মামলাও আছে।
এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইসমাইল হোসেন জানান, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ হলে ঘটনাস্থল তদন্ত করেছি। তবে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
