নওগাঁর মান্দা উপজেলা বিএনপির তৎকালীন সহসভাপতি মুনসুর আলী মৃধাকে ২০০৪ সালের মার্চের ১১ তারিখে প্রকাশ্যে তার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হত্যা করা হয়। সে দিনেই মুনসুর আলী মুধার ভাই মন্টু বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকরামুল বারী টিপুর নাম না থাকলেও পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জবানবন্দিতে হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে উঠে আসে তার নাম। তদন্তকারী কর্মকর্তা মান্দা উপজেলার বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকরামুল বারী টিপুকে প্রধান আসামি করে আদালতে চার্জশিট পাঠান। এরপর দীর্ঘ ৬ বছর আদালতে মামলা চলে।
২০০৯ সালে ডা. একরামুল বারী টিপুসহ ৪ জন আসামী নওগাঁ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে তাদের নাম প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনে তিনি উল্লেখ করেছিলেন তৎকালীন বিএনপি সরকারের দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, সন্ত্রাস, লুটপাটের বিরুদ্ধে অবস্থায় নেওয়ায় তৎকালীন জোট সরকারের স্থানীয় এমপি সামসুল আলম প্রামানিক এবং প্রতিমন্ত্রী অলমগীর কবীরের প্রভাবে তাকে সেই মামলায় প্রধান আসামি করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়। আবেদনে নওগাঁ-৬ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি ইসরাফিল আলম ও সাবেক নওগাঁ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. ফজলে রাব্বি বকু তার নাম প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করেন। এরপর আদালত থেকে তিনি খালাস পান। ২০০৫ সালে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ ও সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপের কারণে জেলা বিএনপি তাকে পদ থেকে
বহিষ্কার ও সদস্য পদ বাতিল করেন।
গত ২৩ অক্টোবর মান্দা উপজেলা বিএনপি সাবেক উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বর্তমান উপজেলা বিএনপির সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে মৃত মুনসুর আলী মৃধার মেয়ে ফারজানা আফরিন মিতু তার বাবার খুনী ডা. ইকরামুল বারী টিপুর বিচার দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন তৎকালীন আওয়ামী সরকারের তদবিরে তার বাবার খুনীরা খালাস পান।
সংবাদ সম্মেলনে মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল বলেন, ডা. ইকরামুল বারী টিপু বিএনপির সাধারণ সম্পাদক থেকে বহিষ্কার হওয়ার পর ২০০৬ সালে বিকল্প ধারায় যোগদান করেন এবং প্রার্থী হন। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির মনোনিত ধানের শীষ প্রার্থীর বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন করে নির্বাচন করেন। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাইগায় জমি দখলের অভিযোগে মানববন্ধন করেন স্থানীয়রা।
শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুল আরও বলেন, গত ২১ তারিখে তিনি একটি টকশোতে দাবি করেন তার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে ৭টি নাশকতার মামলা হয়েছিল। এটি নির্জলা মিথ্যাচার। যা বিএনপি পরিবারে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে কখন নাশকতামূলক মামলা হয়নি। তিনি সর্ব সময়ে আওয়ামী লীগের সাথে সখ্যতা রেখে নিরাপদ জীবনযাপন করেছেন। সংবাদ সম্মেলন থেকে বিএনপির দলীয় আদর্শ, দলের শুনাম ও শৃংখলার স্বার্থে মান্দা উপজেলা বিএনপির পরিবার ডা. ইকরামুল বারী টিপুর সঙ্গে সকল ধরনের রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন।
মান্দা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মতিন দেশ রূপান্তরকে জানান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মুনসুর আলী মৃধার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে হত্যাকান্ডে জড়িত ইকরামুল বারী টিপুর বিচার দাবি করে আসছিলেন। সেটি দলীয় হাইকমান্ডকে জানানোর চেষ্টা করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৩ তারিখে মুনসুর আলী মৃধার পরিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ইকরামুল বারী টিপুর বিচার দাবি জানান। দলের ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী কোনও নেতা বা কর্মী দলে থাকতে পারবে না মর্মে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যে বক্তব্য সেটি বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করছে মান্দা উপজেলা বিএনপি।
ইকরামুল বারী টিপু দেশ রূপান্তরকে জানান, মুনসুর আলী মৃধা মারা যান ২০০৪ সালে। সেই মামলা থেকে ২০১০ সালে আদালত খালাস প্রদান করেন। তখন তারা আপিল করেননি। এত দিন পরে নির্বাচনের সময় এসে জনমনে বিভ্রান্ত সৃষ্টির লক্ষে তারা এই কাজ করছে।
নওগাঁ জেলা বিএনপির সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক নান্নু দেশ রূপান্তরকে জানান, মান্দা উপজেলা বিএনপিসহ মুনসুর আলী মৃধার পরিবার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে তিনি অবহিত আছেন।
মান্দা উপজেলা বিএনপির সদস্য ডা. ইকরামুল টিপুর সাথে উপজেলা বিএনপিসহ সহযোগী সংগঠন রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্নর ঘোষণা প্রদানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তৃণমূলের রাজনীতি তৃণমূল নেতাদের হাতে। তৃণমূলের রাজনৈতি তাদের হাতে সিদ্ধান্ত তাদের। ডা. ইকরামুল বারী টিপু বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো হাইকমান্ডকে জানানো হবে।
