উপদেষ্টা পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের কিছু মন্তব্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকার। তা এড়াতে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে যাবে। যার অর্থ নভেম্বরের পরও উপদেষ্টা পরিষদের সভা এখনকার মতোই চলবে, সংস্কারকাজও থেমে থাকবে না।
গত রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘মিট দ্য রিপোর্টার্স’ অনুষ্ঠানে মাহফুজ আলম বক্তব্য দেওয়ার এক দিন পর গতকাল সোমবার অন্তর্বর্তী সরকারের ওই বিবৃতি আসে।
অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে। সেই নির্বাচনের আগে এ সরকারকে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আদল’ দেওয়ার দাবি তুলেছে বিএনপি।
তার মধ্যেই ডিআরইউর অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য হাতে সময় কম থাকার কথা তুলে ধরে বলেছিলেন, ‘আমাদের যে সময়সীমা আছে, তখন তো ছিল তিন মাস। এখন তো আর হয়তো এক মাস আছে। কারণ, এই যে জিনিসগুলো করা হবে, সেটা ক্যাবিনেটেই করতে হবে। অথবা নীতিমালা বা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে করতে হবে। সেটা আমরা নভেম্বরের পরে আর করতে পারব না। কারণ, নভেম্বরেই ক্যাবিনেট ক্লোজ হয়ে যাবে, ক্যাবিনেট মিটিংটা। এরপর নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেবে। নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর আর সম্ভবত ক্যাবিনেট মিটিং বসে না।’
তার এমন বক্তব্যের পর অন্তর্বর্তী সরকারের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বস্তুত, সরকারের গৃহীত সংস্কার ও নীতিমালা প্রণয়নের কাজ নভেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে এটা সঠিক নয়, বরং সংস্কার কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে চলমান থাকবে। এ ছাড়া উপদেষ্টা পরিষদ নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করা পর্যন্ত নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে যাবে এবং উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকও নিয়মিত হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বর্তমানে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় একটি অধ্যাদেশ এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জন্য বিধিমালা প্রণয়নের কাজ করছে জানিয়ে মাহফুজ আলম বলেছিলেন, ‘আমরা নভেম্বরের মধ্যেই অধ্যাদেশগুলো প্রণয়ন করতে চাই।’
