দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের অভিযোগ শিল্পের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাক্ষাতের জন্য গত চার মাস চেষ্টা করে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এ দাবি করেন। তিনি তৈরি পোশাকশিল্প খাতের চলমান সমস্যা ও সংকট তুলে ধরেন। এ সময় বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমসহ খাত-সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, গত এক বছরে ২৫৮টি রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প কারখানা বন্ধ হয়েছে। পোশাকশিল্পসহ দেশের সমগ্র উৎপাদনমুখী শিল্প বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ রকম একটি প্রেক্ষাপটে, সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকার ‘বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫’ নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ, সেই সঙ্গে উৎপাদনমুখী শিল্প খাত এবং সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য জরুরি কিছু সাম্প্রতিক ইস্যু যেমন এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন, চট্টগ্রাম বন্দরের মাশুল বৃদ্ধি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে বিজিএমইএ। এ সময় কোনো কারখানায় ২০ জন শ্রমিকের সমর্থন পেলেই ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ দেওয়ার বিধান নিয়ে আপত্তি তুলেছে সংগঠনটি। সেই সঙ্গে শ্রমিকের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনার দাবি করেছেন তারা।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘আমরা চার মাস ধরে প্রধান উপদেষ্টার সাক্ষাৎ চেয়েও পাইনি। অথচ স্টারলিংকের কোম্পানি স্পেসএক্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট এলে তার সঙ্গে উনি দেখা করেন। যে কোম্পানি ১০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে চায়। অথচ তিনি ৪০ বিলিয়ন ডলার খাতের প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করেন না।’
শ্রম আইনের সংশোধন নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে মাহমুদ হাসান বলেন, ভারসাম্যহীন ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত টিসিসি এবং ওয়ার্কিং কমিটিতে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে ট্রেড ইউনিয়ন গঠনে ধাপে ধাপে শ্রমিকের সংখ্যা নির্ধারণে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। যেখানে প্রথম ধাপে ৫০ থেকে ৫০০ শ্রমিকের কারখানায় ন্যূনতম ৫০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ইউনিয়ন গঠনের সুযোগ ছিল। কিন্তু পরে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় একতরফাভাবে সেটি পরিবর্তন করে ২০-৩০০ শ্রমিক নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ধাপ করা হয়েছে পাঁচটি। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতা-বিবর্জিত। কারণ মাত্র ২০ জন শ্রমিক দিয়ে একটি ইউনিয়ন গঠন করা হলে কারখানাগুলোয় এমন ব্যক্তিরা ট্রেড ইউনিয়ন করবেন, যারা ওই শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নন। এটি অন্তর্দ্বন্দ্ব ও শিল্পে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে এবং উৎপাদন ব্যাহত করবে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমবে এবং উদ্যোক্তারা নতুন প্রতিষ্ঠান স্থাপন বা পরিচালনায় নিরুৎসাহিত হবেন।’
শ্রমিকের সংজ্ঞায় ‘কর্মচারী/কর্মকর্তা থাকায় বিজিএমইএর আপত্তি রয়েছে বলে জানান তিনি। প্রস্তাবিত সংজ্ঞা বাস্তবায়ন হলে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক স্তর ও শ্রমিক স্তরের মধ্যে বিভাজন ভেঙে যাবে। এর ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে, দায়িত্ব বণ্টনে বিভ্রান্তি তৈরি হবে এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দেবে।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে, প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ২০ জন শ্রমিকের ভিত্তিতে ইউনিয়ন গঠন দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে দুর্বল ও অস্থিতিশীল কাঠামো তৈরি করবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এটা নেতিবাচক বার্তা তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে বিদেশি বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে।’
