ভুয়া কাবিনানামা তৈরি করে স্ত্রী দাবির অভিযোগে এক স্কুল শিক্ষিকার দায়ের করা মামলায় আহসান হাবিব রিপন (৩৮) নামের এক যুবকের তিন বছরের জেল ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তাকে আরও এক মাসের জেল দেওয়া হয়।
গত বৃহস্পতিবার এই রায় দেন মানিকগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. লুৎফর রহমান। দণ্ডপ্রাপ্ত রিপন বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ছৈয়ম তক্তা গ্রামের আব্দুল মান্নান হাওলাদারের ছেলে। এর আগে একটি চেক জালিয়াতির মামলায় রিপনকে এক বছরের জেল ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিপন একটি কাজ করে দেওয়ার কথা বলে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার স্কুল শিক্ষিকার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা নেন। দলিল হিসেবে তাকে একটি চেক দেন। কাজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় টাকা ফেরত চান ওই স্কুল শিক্ষিকা। টাকা ফেরত না দিয়ে নানা টালবাহানা ও সময়ক্ষেপন করতে থাকেন রিপন। এক পর্যায়ে রিপন ভুয়া কাবিনামা তৈরি করে স্কুল শিক্ষিকাকে স্ত্রী দাবি করেন, ঘর সংসার করার জন্য চাপ দেন। স্বামী হিসেবে মেনে না নিলে তাকে খুন করার হুমকি দেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে রিপনের বিরুদ্ধে ভুয়া কাবিননামা তৈরি ও প্রতারণার অভিযোগে মানিকগঞ্জ আমলী আদালতে সি আর মামলা করেন স্কুল শিক্ষিকা। সাক্ষী প্রমাণ ও শুনানি শেষে গত ৩০ অক্টোবর মামলার রায় হয়।
এ ছাড়াও ওই স্কুলশিক্ষিকার দায়ের করা অপর একটি চেক জালিয়াতির মামলায় ২০২১ সালের ৫ অক্টোবর আহসান হাবিব রিপনকে এক বছরের জেল ও দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন মানিকগঞ্জ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আফরোজা বেগম।
মামলার বাদী পক্ষের কৌশলী ছিলেন অ্যাডভোকেট রেজা ফেরদৌস আহমেদ। দুটি মামলার সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে ফেরারি জীবনযাপন করছেন আহসান হাবিব রিপন। কোথাও তাকে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ।
মামলার বাদী স্কুল শিক্ষিকা বলেন, আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। দেরিতে হলেও আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। প্রতারক রিপনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকর করার দাবি জানান তিনি।
