সুন্দরগঞ্জে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:৩৫ পিএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় গরু চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ এক নারীকে আটক করেছে। শনিবার উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের দুর্গম তিস্তার চরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের নাম মো. আব্দুস সালাম (৫০)। তিনি একই ইউনিয়নের রামডাকুয়া গ্রামের মো. ওয়ামেদ আলীর ছেলে। আব্দুস সামলাম দীর্ঘদিন থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানা যায়, গতকাল গভীর রাতে বেলকা নবাবগঞ্জ গ্রামের মৃত দবির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল গণি মিয়ার গোয়াল ঘরে প্রবেশ করেন আব্দুস সালাম। এ সময় গণি মিয়ার স্ত্রী দুলালী বেগম বিষয়টি টের পেয়ে তার স্বামীকে জানান। পরে তারা আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে এসে সালামকে তারা আটক করে। পরে স্থানীয়রা তার দুই হাত রশি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারপিট করে। মারপিট শেষে আব্দুল সালামকে একটি পুকুরে পানিতে খুঁটির সাথে বেঁধে রাখা হয়। সকালে পুকুর থেকে তুলে আবারও সালামকে নির্মমভাবে নির্যাতন চালাতে থাকে। মারপিটের এক পযার্য়ে ঘটনাস্থলেই সালাম মারা যান।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হাকিম আজাদ। তিনি জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ সার্কেল) বিদ্রোহ কুমার কুন্ডু, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুলালী বেগম নামের এক নারীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত করছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে নিহতের স্বজনরা জানান, আব্দুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি মানুষের বাড়িতে কাজ করে যা পেতেন তাই খেতেন। হাট-বাজারে গিয়ে মানুষের কাছে হাত পেতে খেতেন। এর আগে কখনও তার বিরুদ্ধে চুরি বা অপকর্মের অভিযোগ ওঠেনি। তাদের দাবি, সালামকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের ছোট ছোট তিনটি ছেলে সন্তান রয়েছে, বাবাকে হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব ও অসহায় হয়ে পড়েছে। এই হত্যার আমরা বিচার চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত