অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের ঠুনকো কাচের দেয়ালটা ভেঙেই দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উটপাখির মতো বালিতে মুখ গুঁজে বিপদ কাটিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা, ক্যারিবিয়ান ঢেউ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সেই বালির বাঁধ। টানা ৪টা টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ে যে সাফল্যের দাবি, এশিয়া কাপের ব্যর্থতার পরও সেই দাবি থেকে সরে আসেননি ক্রিকেটাররা। বরং নানান সময়ে সংবাদ সম্মেলনে দিয়েছেন বিশ্বের যে কোনো দলকে হারিয়ে দেওয়ার হুংকার। নেপালের কাছে সিরিজ হেরে আসা এবং টানা ৭ টি-টোয়েন্টি সিরিজ হারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন চট্টগ্রামে বাংলাদেশকে হারিয়ে দিল, তখন আর উইকেট নিয়ে অজুহাত দেওয়ার সুযোগটাও থাকল না। ৩টা ম্যাচই বাংলাদেশ হেরেছে ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বহীন ব্যাটিংয়ে, বাজে ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিয়ে আর টিম ম্যানেজমেন্টের উদ্ভট পরিকল্পনায়।
হারের পর অধিনায়ক লিটন দাস অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন টানা খেলার ক্লান্তিকে। লিটন নিজেই তো এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে ৫ ম্যাচ চোটের কারণে বাইরে ছিলেন, ছিলেন না দুটো ওয়ানডে সিরিজেও। যে মিরপুরের উইকেট ব্যাটসম্যানদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দেয়, সেখানেও তো খেলা হয়নি। তারপরও লিটন কেন ৫, ২৩ আর ৬ রান করবেন ৩ ম্যাচের সিরিজে, তার ব্যাখ্যা মেলেনি। টানা ব্যর্থতায় কেন জাকের একাদশে থাকছেন, তারও কোনো ব্যাখ্যা নেই। বিকেএসপির এক সময়ের কোচ, বর্তমানে জাতীয় দলের সিনিয়র সহকারী কোচ সালাহউদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রবল হচ্ছে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ। জাতীয় দলের ওপর খবরদারি বাড়াতে বিসিবি সভাপতি বিশেষ ছায়া কমিটিকে দায়িত্ব দিচ্ছেন জাতীয় দলের দেখভালের, এমন প্রশ্নে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম কিছুটা বিব্রত, ‘বিসিবিরই অনেক স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে এবং কমিটি যখন পূর্ণাঙ্গ রূপে কাজ করবে তারাই সব সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে ছায়া কমিটি রাখার কোনো সুযোগ নেই। তবে কিছু সংখ্যক সাবেক ক্রিকেটার যাদের যথেষ্ট অভিজ্ঞতা আছে, যেকোনো বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।’ যদিও বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, চার সদস্যের একটি ছায়া কমিটি দেখভাল করতে যাচ্ছে জাতীয় দল সংক্রান্ত কর্মকা-, যে চার সদস্য হলেন আমিনুল ইসলাম, ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট ও আব্দুর রাজ্জাক।
টানা ব্যর্থ জাকের আলীকে একাদশে বারবার সুযোগ দেওয়া প্রসঙ্গে ফাহিম বলেন, ‘(কোনো খেলোয়াড়) যখন নতুন আসে তাদের ওপর প্রত্যাশা থাকে না। তারা খোলা মন নিয়ে খেলতে পারে, স্বচ্ছ চিন্তা নিয়ে খেলতে পারে। তাদের ব্যাপারে বিপক্ষ দলেরও অনেক কম জানাশোনা থাকে। তারপর আস্তে আস্তে সফলতা তো একটা প্রত্যাশা তৈরি করে, একই সঙ্গে বিপক্ষ দলও কিন্তু তাদের নিয়ে গবেষণা করে সবকিছু মিলিয়ে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়। তবে মান ভালো থাকলে তারা কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। তারা নতুন পথ আবিষ্কার করে এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসে। আশা করব যে জাকের আলীও সেটা করতে পারবে।’
বাংলাদেশের পরের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, চট্টগ্রামে। ধরে নেওয়া যায় অন্তত এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অন্তত কিছুটা রান করবেন ব্যাটসম্যানরা, তাতে যদি ভেঙে যাওয়া কাচের দেয়াল কিছুটা জোড়া লাগে।
অবশেষে টস জিতল ভারত; আনন্দে মার্শকে জড়িয়ে ধরলেন সূর্যকুমার
বাবার জোড়া গোলের রাতে ছেলের প্রথম গোল