উৎপাদন বন্ধ ইউরিয়া সার কারখানায়, তদন্ত কমিটি গঠন

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১২ পিএম

এশিয়া মহাদেশের অন্যতম ইউরিয়া সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা গত চারদিন যাবৎ বন্ধ রয়েছে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত ৩০ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) রাত দুইটা থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। আর উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় দৈনিক দুই হাজার আটশত মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কারখানাটি।

কারখানা বন্ধ থাকায় গত শনিবার (১ অক্টোবর) সকালে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান ঘোড়াশাল পলাশ ইউরিয়া-সারকারখানা সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন।

কারখানার জিএম (কারিগরি) সরফরাজ খান জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে বন্ধ রয়েছে। এরপর থেকে কারখানায় আর কোন ইউরিয়া সার উৎপাদিত হচ্ছে না। কি কারণে কারখানায় এ ত্রুটি দেখা দিয়েছে খতিয়ে দেখতে আমাকে প্রধান করে শনিবার তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। আমরা এই কমিটি আগামী তিন দিনের মধ্যে কারখানা বন্ধের কারন ও প্রস্তাবনা দিতে বলা হয়েছে।

কারখানার জেনারেল ম্যানেজার (বাণিজ্য) আতিকুর রহমান খান জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ থাকলেও আমাদের সংরক্ষণে প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ রয়েছে। গত অর্থবছর কারখানা থেকে ৮ লাখ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত থাকলেও উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন। এই কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে ১০ লাখ মেট্রিক টন।

কারখানার জিএম (প্রশাসন) মো. ফখরুল আলম জানান, এশিয়ার অন্যতম এই ইউরিয়া সার কারখানায় গত অর্থবছরে আমাদের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেও অতিরিক্ত সার উৎপাদন করেছে। বৃহস্পতিবার হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আর কারখানা উৎপাদনের লক্ষে ইতিমধ্যে স্টারটাপে দেওয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে দ্রুতই আবার উৎপাদন শুরু হবে। এর জন্য যে কতদিন উৎপাদন বন্ধ থাকবে তার জন্য খুব বেশি সার সংকট হবে না বলে আশা করা যায়।

উল্লেখ্য, সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই কারখানাটি স্থাপনের পর ২০২৩ সালের ১২ নভেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। কারখানাটি থেকে বার্ষিক ১০ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদনে সক্ষমতা রয়েছে। গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার। এর বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত