অন্য দেশের সরকার বদলে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি আর নেই

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক দশকে বিভিন্ন দেশের সরকার পরিবর্তনের নীতি অনুসরণ করলেও, এখন সে নীতির অবসান হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের ‘সরকার পরিবর্তন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠন’ নীতির যুগ এখন শেষ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র এখন গণতন্ত্র রপ্তানির বদলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) বাহরাইনে আয়োজিত বার্ষিক নিরাপত্তা সম্মেলন ‘মানামা ডায়ালগ’-এ যোগ দেওয়ার আগে তুলসী গ্যাবার্ড সাংবাদিকদের বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি এক অন্তহীন ও প্রতিকূল চক্রে আবদ্ধ ছিল যেখানে একের পর এক সরকার উৎখাত, রাষ্ট্রগঠন এবং অজানা সংঘাতে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আমরা মিত্রের চেয়ে শত্রু বেশি সৃষ্টি করেছি। এর ফল হয়েছে ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয়, অসংখ্য প্রাণহানি এবং অনেক ক্ষেত্রে আরও বড় নিরাপত্তা হুমকির উদ্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র বিস্তারের পুরনো লক্ষ্যগুলো এখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতায় রূপ নিয়েছে। যেমন : গাজায় যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা, যা ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে অবসান ঘটানো। যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর ন্যাশনাল গার্ডের সাবেক কর্মকর্তা গ্যাবার্ড বলেন, ‘এখন আমরা আর সেসব দেশে একই ধরনের শাসনব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার নীতি অনুসরণ করছি না।’

তুলসী আরও বলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর হলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ অঞ্চলে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন গতিবিধি লক্ষ করা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলতে পারে। তুলসী জানান, পথটি কঠিন হবে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট এই পথে এগিয়ে যেতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত