ভোরের আলো ফোটার আগেই সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে ভক্তদের জপ-প্রার্থনার ধ্বনি মিশে যায়। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরহেয়ার সমুদ্র সৈকতে এমনই এক শান্তিময় আবহে অনুষ্ঠিত হলো প্রথম রাস উৎসব।
বুধবার (৫ নভেম্বর) সকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিজস্ব উদ্যোগে পূজা-অর্চনা ও পুণ্যস্নানের মধ্য দিয়েই শেষ হয় এই ধর্মীয় আয়োজন।
আয়োজকরা জানান, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই নৌপথে চরহেয়ার সৈকতে ভক্তদের ভিড় বাড়তে থাকে। রাতভর চলে কীর্তন ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান। বুধবার সকালে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় পুণ্যস্নান। ভোরের আলো ফুটতেই নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধ সমুদ্রের জলে নেমে পুণ্যস্নান করেন।
তাদের বিশ্বাস-এই দিনে পুণ্যস্নান আত্মার পরিশুদ্ধি আর মনের কামনা পূরণের প্রতীক।
স্থানীয় ভক্ত খোকন দেবনাথ বলেন, আমরা নিজেরা মিলে এই আয়োজন করেছি। সবাই ভোরে এসে স্নান করেছি, পূজা করেছি। মনের মধ্যে অনেক শান্তি পেয়েছি।
কমল দেবনাথ বলেন, প্রথমবার এখানে রাস উৎসব হলো। সবাই খুব আনন্দে অংশ নিয়েছি। আগামী বছর আরও বড় করে আয়োজন করতে চাই। তবে কোনো মেলা বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল না। শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়েই শেষ হয় পুরো অনুষ্ঠান। চরমোন্তাজ ও আশপাশের এলাকা থেকে ভক্তরা অংশ নেন এই প্রথম আয়োজনটিতে। খবর পেয়ে অনেক দর্শনার্থীও সৈকতে ছুটে আসেন। পুণ্যস্নান ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই রাস উৎসবকে ঘিরে চরহেয়ার সৈকতে সৃষ্টি হয় শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় আবহ।
স্থানীয়দের আশা, এই ঐতিহ্য নিয়মিতভাবে অনুষ্ঠিত হলে এলাকার ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি চরহেয়ার সমুদ্র সৈকতের পর্যটন সম্ভাবনাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, চরহেয়ার সৈকতে প্রথমবারের মতো শান্তিপূর্ণভাবে ছোটপরিসরে রাস উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। তবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বা মেলার আয়োজন ছিলো না। ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাস উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। আগামী বছরগুলোতেও যদি এ আয়োজন হয়, প্রশাসন সার্বিক সহযোগিতা করবে।
ওয়াসিম আকরামকে মুগ্ধ করা কে এই ১৭ বছরের আলী রেজা?
আজ সন্ধ্যায় পরীমনির বিয়ে!
আর্থিক সংকটে থাকা শরিয়াহভিত্তিক ৫ ব্যাংকের বোর্ড বাতিল