আপাতত জোটে না এনসিপির

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:১০ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আসনভিত্তিক প্রার্থী নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে জুলাই অভ্যুত্থানের পরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অনেক বাক-বিত-ার পর নির্বাচন কমিশন (ইসি) দলটিকে ‘শাপলা কলি’ প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে। এখন এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে যাবে নাকি কারও সঙ্গে জোট গড়বে এ নিয়ে দলের ভেতরে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কাউন্সিলের বেশিরভাগ সদস্যের মতে, এককভাবে নির্বাচনে যাওয়াই হবে এনসিপির জন্য উত্তম সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত কৌশলগতভাবেও সঠিক হবে। তাদের যুক্তি, দলের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় তৈরি করা এবং ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী বলয় গড়ে তোলার জন্যও এমন সিদ্ধান্ত জরুরি।

জোট প্রশ্নে এনসিপির মধ্যে এক ধরনের দোদুল্যমানতা দেখা যাচ্ছে। দলের কেউ কেউ বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে মত দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটে যাওয়ার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। দুই দলের সঙ্গেই এনসিপির গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের যোগাযোগ চলছে বলে জানা গেছে।

সূত্র বলছে, বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার লাভ-ক্ষতির হিসাব কষছে দলটি। সমঝোতা না হলে এককভাবেই নির্বাচনে যাবে এনসিপি।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের ৫১ সদস্যের নির্বাহী কাউন্সিলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ৩০ জনের বেশি উপস্থিত ছিলেন। দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে দুই মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও সারজিস আলম এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ ঢাকার বাইরে থাকায় সভায় থাকতে পারেননি।

প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে এনসিপির নির্বাচনী কৌশল, সম্ভাব্য জোট, প্রচারণার কৌশল এবং ঘটমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

সভায় উপস্থিত একাধিক শীর্ষ নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এককভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কয়েকজন জোটের বিষয়ে কথা বলেছেন, তবে অধিকাংশই এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি মাসের মাঝামাঝি ৩০০ আসনের প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে।’

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেন, ‘নির্বাচনী জোট কিংবা আসন সমঝোতার বিষয়ে আমরা পরিস্থিতি বিবেচনা করছি। এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হলো এনসিপি নিজস্ব সক্ষমতায় নির্বাচনে লড়বে। আমরা কোনো জোটে কিংবা সমঝোতায় যাচ্ছি না। আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করছি। প্রার্থী তালিকার কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।’

এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, ‘আমরা নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি জোটে না যাওয়ার। আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও জানিয়েছেন এনসিপি এককভাবে নির্বাচনে যাবে। নির্বাহী কাউন্সিলের সভায়ও অধিকাংশ সদস্যই এককভাবে নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবুও অনেক হিসাব-নিকাশ থেকে যায়। আলোচনা চলমান রয়েছে।’

চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে পারে এনসিপি। সে লক্ষ্যে মঙ্গলবার দলটির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রধান ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারাকে সেক্রেটারি করে ১০ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার দলের মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমা শুরু হয়; প্রথম দিনে মনোনয়ন ফরম জমা পড়েছে ৫৭টি। এসবের ৪৭টি অনলাইনে এবং ১০টি সরাসরি বিক্রি হয়েছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সাইফুল্লাহ হায়দার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দলের কেন্দ্রীয় সংগঠক ও জেলা সমন্বয়ক নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের শওকত আলী এবং কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম প্রধান সংগঠক ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের মো. আতাউল্লাহ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন।’

তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরেও বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের নেতারা ফরম সংগ্রহ করেছেন। ঢাকা-১৮, ঢাকা-১৪, ফরিদপুর-৪, কিশোরগঞ্জ-২, কুড়িগ্রাম-৩ ও ৪, রাজবাড়ী-২, ঝালকাঠি-১ এবং কক্সবাজার-২ আসনের প্রার্থীরা ফরম সংগ্রহ করেছেন। ৩০০ আসনে নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে এগুলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার তিনটি আসনে কোনো প্রার্থী দেবে না এনসিপি।

এরই মধ্যে নিজ নিজ এলাকায় প্রচার চালাতে শুরু করেছেন দলটির নেতারা। তারা স্থানীয় পর্যায়ে তরুণ ও নতুন ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন এবং এলাকায় গিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক লক্ষ্য ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন। ব্যানার-পোস্টার সাঁটানো ছাড়াও ছোট আকারের মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক, চায়ের আড্ডা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা সভার আয়োজন করা হচ্ছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা ৩০০ আসন ধরে এগোচ্ছি। কে কোন আসনে দাঁড়াবে তার তালিকা এ মাসেই দিতে পারি।’ জোটের বিষয়ে নাহিদ বলেন, ‘সংস্কারের পক্ষে কেউ না থাকলে তাদের সঙ্গে আমাদের জোটে যাওয়া সম্ভব নয়। আমরা আমাদের মতো প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের মৌলিক দাবিগুলোর কাছাকাছি কেউ থাকলে তাদের কথা আমরা বিবেচনায় রাখব। আমাদের দরজা খোলা আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত