নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারে তুরস্কের পরোয়ানা জারি

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৫ এএম

গাজায় গণহত্যার অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের বেশ কয়েক শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে তুরস্ক। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত শুক্রবার দেশটি এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। নেতানিয়াহু ছাড়াও পরোয়ানা জারি করা ৩৬ জনের তালিকায় রয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কার্ৎজ, জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির ও সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় অব্যাহত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও আগ্রাসন জারি রেখেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

তুরস্ক অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল ২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকে গাজায় ধারাবাহিকভাবে জাতি হত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। আর সে কারণে দখলদার দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আঙ্কারা। এ ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর বলেন, ইসরায়েল ‘ঘৃণা ও তীব্র অবজ্ঞার সঙ্গে’ সম্পূর্ণভাবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে। তিনি তুরস্কের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির ঘটনাকে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের রাজনৈতিক প্রচার কৌশল বলে আখ্যা দিয়েছেন। ইস্তাম্বুল প্রসিকিউটর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মোট ৩৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে, তবে তাদের পুরো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

তুরস্কের অভিযোগ, এই কর্মকর্তারা গাজায় ইসরায়েলের ‘পদ্ধতিগতভাবে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে’ জড়িত। গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের শুরু থেকেই তুরস্ক এর অন্যতম সমালোচক। গত বছর দেশটি দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে একযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আঞ্চলিক শান্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০ অক্টোবর থেকে বিধ্বস্ত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নাজুক এক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। হামাস তুরস্কের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ, যা ন্যায়, মানবতা ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শে বিশ্বাসী তুর্কি জনগণ ও তাদের নেতাদের আন্তরিক অবস্থানকে তুলে ধরে, যারা আমাদের নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি অবিচল সমর্থন জানিয়ে আসছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’আর বলেন, এরদোয়ানের তুরস্কে বিচার বিভাগ বহু আগেই রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, সাংবাদিক, বিচারকদের দমন করার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা অনুযায়ী যুদ্ধোত্তর গাজায় স্থিতিশীলতা বাহিনীতে যোগ দিতে চায় তুরস্ক। তবে ইসরায়েল মনে করে, হামাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তুরস্কের অংশগ্রহণ অনুচিত। জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও কিছু দেশ গাজায় ইসরায়েলের হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ অ্যাখা দিয়েছে। তবে ইসরায়েল বরাবরই গণহত্যার অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘ইহুদি-বিরোধী’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

এদিকে, যুদ্ধবিরতির চললেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধ নেই। বিচ্ছিন্নভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত উপত্যকাটির বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তেল আবিবের সেনারা। পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও আগ্রাসন জারি রেখেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদী বসতি স্থাপনকারিদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলা ও তাদের বাগান ধ্বংসের অভিযোগ উঠেছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলিদের এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী ইসলামিক জিহাদ আরেক জিম্মির মৃতদেহ রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত