ডাকাতি ও হত্যা মামলায় ২৫ বছর সাজা ভোগের পর কারামুক্ত হওয়ার ৩ বছরের মাথায় আবারও হত্যাকাণ্ডে জড়ালেন দুই ভাই। পূর্ববিরোধের জের ধরে তারা এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার ভোরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পূর্ব ইউনিয়নের বাখালছড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি হলেন- বাখালছড়া গ্রামের প্রয়াত শফিকুল হকের ছেলে আবদুল হান্নান (৫৫)। আর এই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত দুই ভাই হলেন- কানাইঘাটের ডাউকেরগুল গ্রামের প্রয়াত ফরমান আলীর ছেলে ফারুক আহমদ ও মঈন উদ্দিন।
পুলিশ ও স্থানীয়সূত্রে জানা যায়, ভোর ৫টার দিকে ফারুক আহমদ ও তার ভাই মঈন উদ্দিনের নেতৃত্বে ৬-৭ জন বাখালছড়া গ্রামে আবদুল হান্নানের বসতঘরে হামলা চালায়। এসময় তারা পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে আবদুল হান্নানকে। স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় আবদুল হান্নানকে উদ্ধার করে কানাইঘাট উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবদুল হান্নানের স্ত্রী শিল্পী বেগম ও বড় ভাই আবদুল মন্নান গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আবদুল হান্নান তার ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য সম্প্রতি জমি বেচে ১০ লাখ টাকা ঘরে রেখেছিলেন। রবিবার ভোর ৫টার দিকে ঘরে রাখা টাকা লুটের জন্য ফারুক আহমদ ও তার ভাই মঈন উদ্দিন তাদের সহযোগীদের নিয়ে আবদুল হান্নানের ঘরে প্রবেশ করেন। তারা আবদুল হান্নানকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে ১০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।’
তবে স্থানীয় অন্য একটিসূত্র জানায়, বছর খানেক আগে জমিসংক্রান্ত বিরোধের মীমাংসা করতে গিয়ে আবদুল হান্নানের লোকজনের সঙ্গে ফারুক আহমদের লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে ফারুক আহমদ আহত হন। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে আবদুল হান্নানকে হত্যা করেছেন ফারুক আহমদ ও তার ভাই মঈন উদ্দিন।
কানাইঘাট থানা পুলিশসূত্রে জানা যায়- ডাকাতি ও হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফারুক আহমদ ও তার ভাই মঈন উদ্দিন দীর্ঘ ২৫ বছর কারাভোগের পর প্রায় ৩ বছর আগে মুক্তি পায়। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফারুক আহমদ ফের অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
কানাইঘাট থানার ওসি আবদুল আউয়াল জানান, আবদুল হান্নান হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর পুলিশের একাধিক টিম জড়িতদের আটক করতে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
