কর্ণফুলীর অবৈধ দখল উচ্ছেদে ৭ দিনের আলটিমেটাম

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী আগামী ৭ দিনের মধ্যে কর্ণফুলী নদীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা না হলে জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে পরিবেশবাদী সাতটি সংগঠন। তাতেও কাজ না হলে কর্ণফুলী নদীর উৎসমুখ অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এসব সংগঠনের নেতারা। গতকাল রবিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগী পাহাড় চত্বরে আয়োজিত মানববন্ধন ও সমাবেশে এই ঘোষণা দেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, কর্ণফুলী নদী বাঁচলে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য বাঁচবে, ব্যবসা-বাণিজ্য বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে। অর্থনীতির হৃৎপিণ্ড এই কর্ণফুলী দখলের প্রতিযোগিতায় থাকা ভূমিদস্যুদের উচ্ছেদে এখন আর আইনি বাধা নেই। কাজেই উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে কোনো ধরনের গড়িমসি করলেই চট্টগ্রামবাসী জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিতে বাধ্য হবে।  

মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরাম, সৃষ্টি, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন, চট্টগ্রাম ইতিহাস সংস্কৃতি গবেষণা কেন্দ্র ও ভোরের আলো নামের সাতটি সংগঠন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক ও প্রশাসনের নির্লিপ্ততায় গত ১৫ বছর ধরে দখল হয়ে চলেছে কর্ণফুলী। দখলদারদের পক্ষে রাজনৈতিক ক্ষমতাধর আইনজীবীরা মামলা লড়ার কারণে কর্ণফুলী দখল উচ্ছেদ ২০১০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত ১৫ বছর দীর্ঘতর হয়েছে। দখলদাররা একই বিষয়ে পর পর পাঁচটি রিট মামলা করেছে। সব কয়টি মামলার রায় তাদের বিপক্ষে গেলেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে নির্লিপ্ত চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে কর্ণফুলীর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে কোনো ধরনের আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই। অতি দ্রুত কর্ণফুলীর সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে হাইকোর্ট ঘোষিত জীবন্ত সত্তা হিসেবে কর্ণফুলীর প্রবাহধারা স্বাভাবিকভাবে অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা না হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ সিডিএর বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ অমান্য করার অভিযোগে আদালত অবমাননা মামলা দায়ের করা হবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মীর্জা ইসমাইল, চ্যানেল আই চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান চৌধুরী ফরিদ, চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা ও পরিবেশ সংগঠক মারুফ হাসান রুমি, ভোরের আলোর প্রতিষ্ঠাতা মো. শফিকুল ইসলাম খান, গ্রিন ফিংগার্স কো-ফাউন্ডার আবু সুফিয়ান, বেলা চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট সংকেত দেব, কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশন সভাপতি এস এ পেয়ার আলী, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক লোকমান দয়াল, বেলার নেটওয়ার্ক মেম্বার রেজাউল করিম রাজা প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত