রেজিস্ট্রার ইস্যুতে প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিল রাকসু

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও প্রশাসনিক দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ চেয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)। 

রাকসু নেতারা এই বিষয়ে ২৪ ঘণ্টার সময় বেধে দিয়েছেন। সোমবার বিকেল পাঁচটার দিকে রাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান রাকসুর প্রতিনিধিরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম ও রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মধ্যে বাগবিতণ্ডার ঘটনা নিয়ে ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। 

গত রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের রেজিস্ট্রারের কক্ষে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

রাজশাহী মহানগর এনসিপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সভা করছিলেন রেজিস্ট্রার। পরে সেখানে বিএনপির নেতা-কর্মীরা সভা করছেন, এই অভিযোগ তুলে রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। একপর্যায়ে তাঁরা বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তিনি বলেন, চিকিৎসা ও মনোবিজ্ঞান বিভাগে ২৩ দিন যাবত ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। 

এই দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিরসনে রাকসুর প্রতিনিধিদল উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত সমাধানের অনুরোধ জানায়। উপাচার্য বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে গত বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণের নির্দেশে স্বাক্ষর করেন এবং ফাইলটি রেজিস্ট্রার দপ্তরে প্রেরণ করেন। 

প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে একই দিনে চিঠি ইস্যু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রোববার দুপুর পর্যন্ত রেজিস্ট্রার দপ্তর সেই চিঠি ইস্যু করেনি। ফলে বিভাগটির ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থেকে শিক্ষার্থীরা আরও একদিন একাডেমিক ক্ষতির মুখে পড়ে।

ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ আরও বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে জানতে রাকসুর জিএস ও সিনেট সদস্য সালাহউদ্দিন আম্মার রেজিস্ট্রার দপ্তরে উপস্থিত হন। পরে দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানায় যে, রেজিস্ট্রার তখন রাজনৈতিক প্রোগ্রামে ব্যস্ত ছিলেন এবং পরে আসবেন। 

প্রশাসনিক দায়িত্বের সময়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা নীতিগতভাবে অনুচিত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুশাসনের পরিপন্থী। সরাসরি দেখা করে বিষয়টির অগ্রগতি জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন এবং উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন।

রাকসুর অবস্থান তুলে ধরে ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সংকট উপেক্ষা করে প্রশাসনিক পদক্ষেপ বিলম্বিত করা দায়িত্বহীনতা ও জবাবদিহিতার অভাবের দৃষ্টান্ত। 

একজন নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধির সঙ্গে এমন আচরণ রাকসুর মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করেছে এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক নীতিমালার পরিপন্থী। 

রাকসুর দাবি—ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ইফতিখারুল আলম মাসউদের অশোভন আচরণের তদন্ত করে তাঁকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের ব্যবস্থা নিতে হবে।”

এক প্রশ্নের জবাবে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “একজন শিক্ষক তার দায়িত্ব ভুলে চেম্বারে রাজনৈতিক আলোচনা করছিলেন। 

এই জায়গায় শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান না করে রাজনৈতিক আলাপ করার কোনো অধিকার নেই। রাকসুর প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তার আচরণ ছিল বিমাতাসুলভ।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত