বিদ্যালয়ের জমি দখল করে দোকান-ঘর নির্মাণ

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৫৪ এএম

বরগুনার আমতলীতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে দোকান ও বসতবাড়ি গড়ে তুলেছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। জমি উদ্ধারের বিষয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেও মেলেনি প্রতিকার। জমি উদ্ধারে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কেওয়াবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ইউছুফ হাওলাদার, আলতাফ হাওলাদার, হালিম হাওলাদার, মোতালেব হাওলাদার, হাবিবুর রহমান, আবু বকর, পাশা মিয়া, গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবর বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের জন্য লিখিত আবেদন করেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা বেগম। কিন্তু কোনো সুরাহা  মেলেনি।

জানা যায়, পূর্ব কেওয়াবনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৬৫ সালে কমিউনিটি স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৭৩ সালে এটি জাতীয়করণ হয়। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে ওই এলাকার মৃত আলী হাওলাদার ও মৃত কাছেম আলী হাওলাদার ৬২ শতাংশ জমি ওই বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। এরপর বিদ্যালয়ের মূল জমি থেকে প্রায় অর্ধেক জমি ভোগদখল করে আসছেন অভিযুক্ত প্রভাবশালীরা। এ জমিতে কেউ টিনশেডের বসতবাড়ি, কেউ পাকা ভবন, কেউ-বা দোকানঘর তৈরি করে দখলে নিয়ে বসবাস করছেন।

এ ঘটনায় জমি দখলকারীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে রূঢ আচরণ করার পাশাপাশি মিথ্যা মামলা করার হুমকি দেন। বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের সব ধরনের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা ও এলাকাবাসী।

স্থানীয় আলী হাওলাদারসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রভাবশালীরা বিদ্যালয়ের জমি জোর করে ভোগদখল করছেন। এমনকি তারা বিদ্যালয়ের জমি থেকে বড় বড় গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খাদিজা বেগম বলেন, ‘জমি উদ্ধারের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করেছি। এ আবেদন করায় প্রভাবশালীরা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।’

আমতলী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, ‘সরকারি বিদ্যালয়ের জমি কেউ দখল করে ভোগদখল করতে পারবে না। প্রশাসনিকভাবে জমি উদ্ধারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত