ভারতকে হারিয়ে ভক্তদের 'সেরা উপহার' দিতে চায় হামজারা

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৭ পিএম

ফুটবল মাঠে শীর্ষ পর্যায়ে ভারতকে হারানোর স্মৃতি নেই বর্তমান প্রজন্মের। ২২ বছর আগে সেই ২০০৩ সালে জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ভারতের বিপকক্ষে মতিউর মুন্নার অসাধারণ গোলে বাংলাদেশ উঠেছিল ফাইনালে। সেটাই প্রতিবেশীর বিপক্ষে শেষ জয়ের স্মৃতি। এরপর বারবার খুব কাছে গিয়েও জয়ের বন্দরে ভেড়ানো যায়নি বাংলাদেশ তরী। ভারতকে বিপক্ষে জয়টা তাই পরম প্রার্থীত। ১৮ নভেম্বর একই মাঠে ২২ বছর আগের স্মৃতি কী ফেরাতে পারবে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ? সেটা সময় বলে দিবে। তবে বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরা খুব করে চান, ভারতকে হারিয়ে ভক্তদের সেরা উপহার দিতে।

এশিয়ান কাপের বাছাই উতরে মূলপর্বে যাওয়ার রেস থেকে ছিটকে গেছে দু'দলই। তাই ১৮ নভেম্বর ম্যাচটা শুধুই মর্যাদার। তারপরো এ ম্যাচ নিয়ে মানুষের আগ্রহ চূড়া ছুঁয়েছে। মাত্র ছয় মিনিটে বিক্রি হয়ে গেছে অনলাইনে ছাড়া গ্যালারির সব টিকিট। এমনটা ঘটছে ফি ম্যাচেই। বিশেষ করে হামজা চৌধুরী, শমিত সোমরা আসার পর থেকে ফুটবলে আগ্রহ বেড়েছে অনেক। ভক্তদের এই ভালোবাসার প্রতিদান দেওয়ার দায়টা ফুটবলারদের। আর তাদের কাছ থেকে সেরাটা নিংড়ে এনে জয়ী দলের কোচ হওয়ার তাড়ানা কাবরেরার। সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের প্রতিদান দিতেই ভারতকে হারাতে চান কোচ। জয় বারবার হাতছাড়া হওয়ায় তাকে সইতে হয় অনেক সমালোচনা। এটাকে ইতিবাচক হিসেবে নিয়ো কাবরেরা বলেন, 'সমালোচনা মেনে নেওয়াটা কাজেরই অংশ, যা সবসময় দলের সেরাটা বের করে আনে। সবাইকে সন্তষ্ট করা কঠিন। কারণ সবারই ভিন্নমত থাকবে। তবে আমরা দলের সঙ্গে কথা বলেছি, যদি কোনো কিছু দলকে একত্রিত করতে পারে সেটা ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে জয়। সেটাই হবে সমর্থকদের জন্য সেরা উপহার।'

মানুষের আগ্রহ নিয়ে কাবরেরা বলেন, 'বিষয়টা ভীষণ আনন্দের। এত মানুষ, এত মনোযোগ দেখে বোঝা যায় দলটা মনযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে হামজা যোগ দেওয়ার পর এবং সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সগুলোর কারণে। আমার মনে হয়, দল ভালো খেলছে এবং হামজার মতো খেলোয়াড়রা স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচক মনোযোগ এবং প্রত্যাশা নিয়ে এসেছে। তাই আমরা এই পরিবেশ, এমনকি মাঝে মাঝে যে বিশৃঙ্খলা হয়, সেটাও উপভোগ করছি।'

নেপালের সঙ্গে মাঝে ম্যাচ থাকলেও কাবরেরার চিন্তার বেশিটা জুড়েই ভারত ম্যাচ। মূল পরীক্ষার আগে প্রস্তুতির সুযোগটা শতভাগ কাজে লাগাতে চান তিনি। চান নেপালের বিপক্ষে যত বেশি সংখ্যক খেলোয়াড়কে পরখ করে নিতে, খেলার সুযোগ করে দিতে, 'আমরা মূলত ভারত ম্যাচের প্রস্তুতি নিচ্ছি। তাই যতটা সম্ভব ছেলেদের গেমটাইম দেব এবং ১৭ জনকেই ব্যবহার করার চেষ্টা করব (প্রথম একাদশ এবং ছয়জন বদলি)। ভারতের বিপক্ষে ভালোভাবে প্রস্তুত হওয়া এবং জেতার দিকেই মনোযোগ আমাদের।'

দলের আক্রমণভাগের অন্যতম আস্থা রাকিব হোসেনও রোমাঞ্চিত মানুষের আগ্রহ দেখে। এটাকে তিনি অনুপ্রেরণা হিসেবে নিচ্ছেন, 'আসলে এটা কোচ চাপ না। কারণ ফুটবলে আসলে আকর্ষণীয় হলো দর্শক, যারা আমাদেরকে মাঠে সবসময় উজ্জীবিত করে। এবার আমরা দেখছি যে খুব তাড়াতাড়ি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। এটাই আসলে আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা ভালো কিছু করার জন্য ভারতের বিপক্ষে।'

ভারত দলে নেই দেশটির সর্বকালের সেরা গোলদাতা সুনীল ছেত্রী। কোন খালিদ জামিল অভিজ্ঞদের চেয়ে তারুণ্যে আস্থা রেখে চাইছেন নতুন করে দলটিকে গড়ে তুলতে। সুনীলের না থাকা প্রসঙ্গে রাকিব বলেন, 'সুনীল অনেক বড় মাপের একজন ফুটবল খেলোয়াড়। দক্ষিণ এশিয়ায় তার চেয়ে বড় খেলোয়াড় আগে ছিল না। তবে এখন হামজা ভাই আমাদের দলে এসেছেন। সে (সুনীল) আসলে ভালো হতো। এখন যারা আসবে তার পজিশনে, তারা নিশ্চয় তার থেকে ভালো করেছে। কারণ তার বয়স অনেক বেশি। তার জায়গায় যারা আসবে, তার থেকে তাদের ভালো মনে করেছেন কোচ। আমি মনে করি সুনীল না আসাটা আমাদের জন্য ভালো হবে।'

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত