ফরিদপুর-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধোঁয়াশা

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৫ এএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ৩ নভেম্বর ২৩৭টি আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। তবে বাকি ৬৩টি আসনের মধ্যে কতগুলোতে বিএনপি’র প্রার্থী দেওয়া হবে এবং কতগুলো শরীকদের ছেড়ে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি। ঘোষিত ২৩৭টি আসনের মধ্যে ফরিদপুরের ৩টি আসনের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। 

ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিঙ্কুকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। শামা ওবায়েদ বিএনপির সাবেক মহাসচিব মুক্তিযুদ্ধের সংগঠন কে. এম ওবায়দুর রহমানের মেয়ে। ফরিদপুর-৩ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নায়াব ইউসুফকে। তিনি সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক সহসভাপতি প্রয়াত চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে। এছাড়া ফরিদপুর-৪ আসন থেকে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। 

কিন্তু ফরিদপুর-১ আসন থেকে বিএনপি’র এখনো কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি। এ আসনটি মিত্রদের ছেড়ে দেওয়া হবে কি-না তাও স্পষ্ট নয়। ফরিদপুর-১ আসন বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এই নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির দুটি গ্রুপ সক্রিয়। এক গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহসভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম। অপর গ্রুপের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও ফরিদপুর-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক ভিপি সামসুদ্দিন মিয়া ঝুনু। গত ২৩ অক্টোবর ফরিদপুরের বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গার উপজেলা ও পৌর বিএনপির ছয়টি সাংগঠনিক কমিটির অনুমোদন দিয়েছে জেলা বিএনপি। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ইছা ও সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপনের স্বাক্ষরে ওই ছয়টি কমিটি ঘোষণা করা হয়। ওই কমিটিগুলোতে খন্দকার নাসিরের অনুসারীদের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল। এ সময় খন্দকার নাসিরের নেতাকর্মীরা এটাও প্রচার করে যে, এই কমিটি দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক সরাসরি নির্দেশিত। এজন্য সকলে অনুমান করে নিয়েছিলো, ফরিদপুর-১ আসন থেকে সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরের দলীয় প্রার্থীতা এক রকম চূড়ান্ত। বিএনপি গত ৩ নভেম্বর সারাদেশের ২৩৭টি আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। কিন্তু ঘোষিত প্রাথমিক প্রার্থী তালিকায় ফরিদপুর-১ আসনের কেউ নেই। এরপর থেকে ফরিদপুর-১ নির্বাচনী এলাকায় সকালে এক গুঞ্জনতো বিকেলে আর এক। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এনিয়ে চলছে বিশ্লেষণ আর মনগড়া স্ট্যাটাসের ছড়াছড়ি। 

এসব গুঞ্জনের মধ্যে ‘ঢাকা টাইমস’ সম্পাদক ও ফরিদপুর-১ আসন থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৮৪ হাজার ৯৮৯ ভোট পাওয়া আরিফুর রহমান দোলন, চারবারের সাবেক এমপি শাহ মো. আবু জাফর অন্যতম। অবশ্য খন্দকার নাসিরের অনুসারীদের আশা তাদের নেতাকেই শেষ পর্যন্ত দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হবে। আন্দালিব রহমান পার্থর দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টিকে (বিজেপি) ফরিদপুর-১ আসন বিএনপি ছেড়ে দেবে বলে গুঞ্জন উঠেছে। আর সেক্ষেত্রে আরিফুর রহমান দোলন বিজেপিতে যোগ দিয়ে এই আসন থেকে নির্বাচন করবেন। আবার কেউ কেউ নিশ্চয়তার সঙ্গে বলছেন চারবারের সাবেক এমপি শাহ মো. আবু জাফর আবার বিএনপিতে যোগ দিয়ে প্রার্থী হবেন। কেউ আবার বলছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা হলে খেলাফত মজলিসকে এ আসন ছেড়ে দিতে পারে। সেক্ষেত্রে খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শারাফাত হুসাইন প্রার্থী হতে পারেন।

তবে ফরিদপুর-১ নির্বাচনী এলাকা তথা বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালিতে বিএনপির দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রয়েছেন দলটির কর্মী-সমর্থকেরা। তবে শেষ পর্যন্ত এ আসন অন্য কোনো মিত্র দলকে ছেড়ে দিলে এই নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান যে নাজুক হয়ে পড়বে, তাতে কোন সন্দেহ নেই। 

উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি বলে বিবেচিত ফরিদপুর-১ আসনে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে এ পর্যন্ত দশবার আওয়ামী লীগ এবং একবার করে জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছে। ২০০৫ সালে আওয়ামী লীগের কাজী সিরাজুল ইসলাম বিএনপিতে যোগ দিলে আসনটি খালি হয়। তখন আওয়ামী লীগবিহীন অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনে বিএনপির শাহ মো. আবু জাফর নির্বাচিত হন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত