আগামী নির্বাচন ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৪ এএম

তরুণদের নেতৃত্বে গণআন্দোলনে বাংলাদেশ এক গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘এখন আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা জাতির ইতিহাসে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে।’

গতকাল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় কানাডিয়ান পার্লামেন্টারি প্রতিনিধিদল সাক্ষাতে এলে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। কানাডার সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলের দুই সংসদ সদস্য সালমা জাহিদ ও সামির জুবেরি উপস্থিত ছিলেন সেখানে।

প্রতিনিধিদলটি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করে।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রতিনিধি দলকে চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা এমন এক সময়ে বাংলাদেশে এসেছেন, যখন দেশটি এক বড় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তরুণদের নেতৃত্বে এক নতুন জাগরণ ঘটছে। এখন আমরা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি, যা জাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হবে।’

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি কানাডার অব্যাহত সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পার হয়েছে। তাদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনই একমাত্র কার্যকর সমাধান। এর কোনো বিকল্প নেই। প্রায় ১২ লাখ মানুষ এখানে বসবাস করছে। হাজার হাজার শিশু জন্ম নিয়েছে, বড় হচ্ছে, কিন্তু তারা জানে না তাদের নাগরিকত্ব বা ভবিষ্যৎ কী হবে, তারা ক্ষুব্ধ। এখন তহবিল সংকট দেখা দিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।

বৈঠকে সিনেটর সালমা আতাউল্লাহজান বলেন, তিনি রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে বিবৃতি দেবেন এবং কানাডার পক্ষ থেকে এই বাস্তুচুত জনগোষ্ঠীর প্রতি অব্যাহত সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলে আসছি। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বিষয়। বিশ্বকে এখনই তাদের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মনোযোগ দিতে হবে।’

এ সময় অধ্যাপক ইউনূসকে এ বিষয়ে তার অব্যাহত প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানান আতাউল্লাহজান।

সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষ তৈরি পোশাক, কৃষি ও অন্য খাতে সম্ভাব্য বাণিজ্য সুযোগ এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান রপ্তানি শিল্পে কানাডিয়ান বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন।

কানাডিয়ান প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন হিউম্যান কনসার্ন ইন্টারন্যাশনাল (এইচসিআই)-এর গ্লোবাল সিইও মাহমুদা খান, হিউম্যান কনসার্ন ইউএসএ (এইচসিইউএসএ)-এর সিইও মাসুম মাহবুব, জেসটাল্ট কমিউনিকেশনস-এর সিইও আহমদ আতিয়া এবং ইসলামিক রিলিফ কানাডার সিইও উসামা খান।

সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বিষয়ক জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ।

‘ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না’ : শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পি এস মাহসুদ মেরামত করে প্রমোদতরী হিসেবে চালুর সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বৈচিত্র্যপূর্ণ নৌকার ডিজাইন পুরো পৃথিবীতে বিখ্যাত। অথচ এগুলো সম্পর্কে বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই জানে না। আমাদের এই ঐতিহ্যকে হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না। প্যাডেল স্টিমারসহ যত পুরনো নৌযান আছে, সবকটিই সংরক্ষণে ব্যবস্থা নিতে হবে।’

গতকাল বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টাকে প্রমোদতরী চালুর বিষয়ে অবহিত করেছেন নৌ-উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) অধীনে রয়েছে শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পি এস মাহসুদ।

প্যাডেল স্টিমারটি চালু হলে তা দেশে ও বিদেশের বহু পর্যটকের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করছেন বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা। বিদেশি পর্যটকদের জন্য এতে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার, বাংলা গানের পরিবেশনাসহ নানান আকর্ষণ থাকবে।

কর্মকর্তারা জানান, সপ্তাহে সাত দিনই প্রমোদতরীগুলো চলবে। পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ যাত্রার পাশাপাশি ২-৩ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত যাত্রার ব্যবস্থাও থাকবে।

এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘ঐতিহ্যবাহী এই প্যাডেল স্টিমারগুলোতে ইতিহাস সংরক্ষণ করতে হবে। যারা এতে যাত্রা করবে তারা যেন ইতিহাসটা জানতে পারে। কত বছর আগের স্টিমার, কী নাম, তখনকার দিনে কত আনা ভাড়া নিত, এর পেছনের গল্পটা কীÑ সেগুলো যেন সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়।’

নৌপরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ‘পি এস মাহসুদ শুধু একটি নৌযান নয়, এটি বাংলাদেশের নদীজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের জীবন্ত প্রতীক। আমরা চাই, নতুন প্রজন্ম কাছ থেকে দেখুক, একসময় নদীপথই ছিল যোগাযোগ ও সংস্কৃতির প্রাণ।’

পি এস মাহসুদের পাশাপাশি পি এস অস্ট্রিচ ও পি এস লেপচাসহ অন্য পুরনো স্টিমারগুলোও সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং চট্টগ্রামের কাপ্তাই লেকেও প্রমোদতরী হিসেবে একটি স্টিমার চালুর বিষয়ে ভাবা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তরুণরা যেন বাংলাদেশের এই মূল্যবান ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারে, সেজন্য বিশেষ দিনে শিক্ষার্থীদের জন্য এই প্রমোদতরীর বিশেষ যাত্রার আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে বিআইডব্লিউটিসির কর্মকর্তারা জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত