পাকিস্তানে সেনাপ্রধানের ক্ষমতা বৃদ্ধির নতুন আইন পাস

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৩ এএম

পাকিস্তানের সংসদ একটি বিতর্কিত সংবিধান সংশোধনীতে সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ক্ষমতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করছে। এটি অনুমোদনের মাধ্যমে তাকে আজীবন আইনি অভিষেক থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং নতুনভাবে চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, যা সামরিক বাহিনীর সব শাখার উপর তত্ত্বাবধান করবে। সংশোধনীটি সোমবার সিনেটের অনুমোদনের পরে বুধবার নিম্নকক্ষে পাস হয়েছে। সমালোচকেরা বলছেন, এই পদক্ষেপ সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীনতাকে দুর্বল করে গণতান্ত্রিক নিয়মকানুনকে হুমকির মুখে ফেলছে। তারা এটিকে 'গণতন্ত্রের শেষকৃত্য' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। 
 
নতুন সংশোধনীতে সুপ্রিম কোর্টের উপরে একটি ফেডারেল সংবিধানিক আদালত স্থাপন করা হয়েছে যেখানে বিচারকরা একমাত্র নির্বাহী কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিয়োগ পাবেন এবং বিচারক স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আইনজীবী এবং বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এটি কার্যত বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ধ্বংস করছে এবং পাকিস্তানে আজীবন সামরিক শাসনের পথ সুগম করছে। 
 
বিপক্ষ দলগুলো, যার মধ্যে পাকিস্তান তেহরীক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) অন্যতম, বড় অংশে ভোট বয়কট করেছে। তারা জানিয়েছে, মুনির ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করার চেষ্টা এবং শাসক জোটের সিভিল সোসাইটি বা আইনি সম্প্রদায়ের সঙ্গে পরামর্শ না করার কারণে তারা ভোটে অংশগ্রহণ করেনি। অন্যদিকে, শাসক পক্ষের মতে, সংশোধনী সামরিক আধুনিকীকরণ এবং কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।
 
২০২২ সালে মুনির সেনাপ্রধান হওয়ার পর থেকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব কায়েম করেছেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্বে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নিয়েছেন, যা দেশটির নাজুক গণতন্ত্রে সামরিক আধিপত্য বাড়ার উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত