এবার রাউজান থানার ওসিসহ একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি 'সন্ত্রাসী' রায়হানের

আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৭ পিএম

এবার চট্টগ্রামের রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলামসহ একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার হুমকি দিলেন দুর্ধর্ষ সেই 'সন্ত্রাসী' ৮ হত্যা মামলার আসামি মো. রায়হান আলম।

গত ৫ থেকে ১৩ নভেম্বর রায়হান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। পলাতক অবস্থায় থাকা রায়হানের তার পোস্টে প্রতিপক্ষকে ‘ভয়ংকর মৃত্যু’, ‘খেলা শুরু’ এবং ‘টাকার কারিশমায় মামলা’ এমন ভাষায় হুমকি দেন৷

রায়হানের ফেসবুক আইডির নাম রায়হান আলম। তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজন এটি যে রায়হান আলমের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলামও নিশ্চিত করেছেন।

রায়হানের এসব পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। গত কয়েক দিনে পরপর কয়েকটি পোস্টে রায়হান লিখেছেন, 'খারাপের শেষ দেখাই ছাইড়া দিমু তোমাদের।'

ফেসবুক পোস্টে রায়হান জনৈক আজিজ নামে একজনের নাম ধরে লেখেন, ‘আজিজের দালাল যারা আছে, তাদের নাম ঠিকানা ইনবক্সে দেন। বাকিটা আমি দেখে নিব।’

রায়হান দাবি করেন, কোনো তদন্ত ছাড়া টাকার বিনিময়ে তার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। তার মন্তব্য, ‘আমি মাসিক বান্ডেল মারতে পারি নাই তাই আমার পিছনে বাঁশ দিয়েছে। এগুলো কি টাকার কারিশমা না?’

ফেসবুক পোস্টে প্রতিপক্ষকে হত্যার হুমকি দিয়ে রায়হান এক ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে লেখেন, ‘তোর মৃত্যু হবে সব চাইতে ভয়ংকর। কুকুরে তোর নাড়িভুড়ি টেনে টেনে খাবে।’ আরেকটি পোস্টে রায়হান অভিযোগ করেন, তাকে হত্যা করতে ২০ লাখ টাকা বাজেট করা হয়েছে। পাল্টা তিনি লেখেন, আমি ৩০ লাখ দেব আজিজকে জীবিত দিতে হবে।’

রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলামকে উদ্দেশ করে রায়হান একটি পোস্টে লিখেন, ‘মামলা বাণিজ্য বন্ধ করুন। সঠিক তদন্ত না করে টাকার বিনিময়ে মামলা দিলে রাউজানের পরিস্থিতি আপনার কন্ট্রোলের বাইরে চলে যাবে।’

জেলা পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, ৮ খুনসহ ১৫ মামলার আসামি সন্ত্রাসী রায়হান ফেসবুকে যেভাবে হুমকি দিচ্ছে, তা উদ্বেগজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে পর্যবেক্ষণ করছি। তবে পুলিশ বলছে, রায়হানকে গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ নজরদারি চলছে। তার পোস্টগুলো থেকে নতুন তথ্য মিলছে, যা তদন্তে কাজে লাগানো হচ্ছে।

রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘আমাকেও সরাসরি হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসী রায়হান। এছাড়া আরও অনেক লোককেও হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমরা তাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রেখেছি।’

গত ৫ নভেম্বর নগরের চালিতাতলী এলাকায় আসন্ন সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে ঢুকে সরওয়ার হোসেন বাবলা নামে আরেক সন্ত্রাসী ১৫ মামলার আসামির ঘাড়ে পেছন থেকে গুলি করে খুন করে রায়হান। এ ঘটনায় বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহসহ আরও দুজন গুলিবিদ্ধ হন।

এছাড়া এই রায়হান রাউজান উপজেলায় যুবদল কর্মী মো. আলমগীর ওরফে আলম, রাউজানের কদলপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মো. সেলিম, রাউজান ইউনিয়নের যুবদল কর্মী মোহাম্মদ ইব্রাহিম, নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে প্রাইভেটকারে থাকা মো. বখতিয়ার হোসেন ওরফে মানিক (২৮) ও আব্দুল্লাহ আল রিফাত (২২) নামে দুজনকে গুলি করে হত্যা ও ঢাকাইয়া আকবরকে হত্যায় জড়িত রয়েছে তার নাম

রায়হান রাউজান উপজেলার ৭ নম্বর ইউনিয়নের জুরুরকুল খলিফা বাড়ির মৃত বদিউল আলমের ছেলে মো. রায়হান। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী অন্তত ২০ মামলার আসামি সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের (বর্তমানে কারাবন্দী) অন্যতম সহযোগী।

পুলিশ জানায়, রায়হানের বিরুদ্ধে গত বছরের ৫ আগস্টের পর চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় জোড়া খুনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৫টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি হত্যা মামলা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত