শাকসু নির্বাচন: নতুন তারিখের আল্টিমেটাম, ৬ ঘণ্টা অবরুদ্ধ উপাচার্য

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:৩৪ পিএম

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচনের ঘোষিত তারিখ বাতিল করে নতুন সিদ্ধান্তের জন্য এবার আন্দোলনকারীরা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাত প্রায় ৩টা ৪৫ মিনিটে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী দেলোয়ার হাসান (শিশির) আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, ‘শাকসুর ঘোষিত নির্বাচন তারিখ আমরা ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছি। আগামী ১২ ডিসেম্বরের আগেই যেকোনো একটি দিনে নতুনভাবে নির্বাচনসূচি ঠিক করতে হবে। আমরা প্রশাসনকে আজ রাত ৯টা পর্যন্ত সময় দিচ্ছি। এই সময়সীমার মধ্যেই নতুন তারিখ জানাতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। আমরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। একই সঙ্গে শীতকালীন ছুটি বাড়ানোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তও সব শিক্ষার্থী প্রত্যাখ্যান করেছে।’

এর আগে গতকাল রাতে ৯টা ১৫ মিনিটে সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী ঘোষণা দেন যে শাকসু নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। সেই ঘোষণার অল্প পরেই রাত সাড়ে ৯টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে প্রশাসনিক ভবনের ফটক ঘিরে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে উপাচার্য, সহউপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, রেজিস্ট্রার, প্রক্টর, নির্বাচন কমিশনারসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। রাত ১টার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে উপাচার্যসহ অন্যান্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসে পরিস্থিতি বোঝানোর চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত আজ দুপুরের আগে সিদ্ধান্ত জানানো হবে—এই শর্তে প্রায় ছয় ঘণ্টা আটকে থাকার পর তারা মুক্ত হওয়ার সুযোগ পান। শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের কর্মসূচি আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত স্থগিত রাখা হবে।

অন্যদিকে, আন্দোলনস্থলে এসে গতকাল রাত ১০টা ৩০ মিনিটে সমর্থন জানান ইসলামী ছাত্রশিবির শাবিপ্রবি শাখার সেক্রেটারি মাসুদ রানা তুহিন। তিনি বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন নিয়ে প্রথম থেকেই একটি মহল বিরোধিতা করছে। উপাচার্য স্যার বলেছিলেন ৯ বা ১০ ডিসেম্বর নির্বাচন হবে। অথচ হঠাৎ ১৭ ডিসেম্বর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ছাত্রশিবির এই সিদ্ধান্তকে প্রহসন হিসেবে দেখছে এবং প্রশাসনের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছি।’

অবরোধ চলাকালে উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শাকসু নির্বাচন হবেই। তোমরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করো। একা কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আমার নেই। তোমাদের যৌক্তিক দাবিগুলো দায়িত্বশীলদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’

আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ছাড়া আন্দোলনে ইসলামী ছাত্রশিবির, ছাত্র আন্দোলন, ছাত্রমজলিশ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন।

বকেয়া ফি পরিশোধে শিথিলতা, শীতকালীন ছুটির সময় পরিবর্তন

এদিকে, শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমালোচনার পর বকেয়া ফি পরিশোধের শর্তে শিথিলতা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, শাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের গঠনতন্ত্রের ৮ (ছ) ধারা অনুযায়ী নির্বাচনে ভোটার অথবা প্রার্থী হতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাবতীয় বকেয়া নিষ্পত্তির যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা আপাতত শিথিল করা হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৭ ডিসেম্বর শাকসু নির্বাচন ও আগামী ১৩ ও ১৪ জানুয়ারি প্রথমবর্ষ প্রথম সেমিস্টারের ভর্তি পরীক্ষা থাকায় সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় পূর্বঘোষিত ২১ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত শীতকালীন ছুটি পরিবর্তন করে ২৮ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও অফিস বন্ধ থাকবে। তবে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা যথারীতি চলবে।

উপাচার্য বলেন, ‘তোমাদের আশঙ্কা রয়েছে ১৭ তারিখ নির্বাচন হলে ভোটার শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নাও থাকতে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনা করেই শীতকালীন ছুটির সময় পরিবর্তন করা হয়েছে। এরপরও ভোটারদের ক্যাম্পাসে রাখার জন্য যা করা দরকার সবকিছুই আলোচনা করে করা হবে, ইনশাআল্লাহ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত