রামগতি-কমলনগরে অবৈধযানে বছরে ৩৩ কোটি টাকার বিদ্যুৎ অপচয়

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:২২ পিএম

লক্ষ্মীপুরের রামগতি-কমলনগরে প্রায় অনিবন্ধিত ও অনিয়ন্ত্রিত ৭ হাজার অটোরিকশা ও ইজিবাইক রয়েছে। এদের নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় কোন হস্তক্ষেপ নেই।

এরা নিজেরা নিয়ন্ত্রিত এবং নিয়ন্ত্রণহীন। অদক্ষ চালকরাই আবার মাদকসেবী ও ভয়ংকর কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এদের সামাজিক দায়বদ্ধতা নেই বললেই চলে। এছাড়াও এরা অবৈধ লাইন ব্যবহারে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ব্যাটারি চার্জ দিচ্ছে। একটি অটোরিকশায় প্রতিদিন দু'বার চার্জ দিলে গড়ে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়। এতে ৭ হাজার রিকশায় প্রতিদিন গড়ে ৭০ হাজার কিলোওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হয়। তবে বেশির ভাগ বিদ্যুৎ লাইনই অবৈধভাবে ব্যবহ্নত হচ্ছে।

অটোরিকশা ও ইজিবাইকের দ্রুতগতি সংযোগে বিদ্যুৎ লাইনগুলোতে ঝুঁকি তৈরি করছে। বাণিজ্যিক কিলোওয়াট ১৩ টাকা হারে প্রতিবছর অনিবন্ধিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকে গড়ে ২ কোটি ৫৫ লাখ কিলোওয়াটে ৩৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে।

চালকের নেই প্রশিক্ষণ, গাড়ির নেই কোন লাইসেন্স বা নিবন্ধন। সড়কে চলছে অবৈধ তিন চাকার অটোরিকশা ও ইজিবাইক। শিশু বা ১৮ বছরের নিচে রয়েছে শতকে অর্ধেক চালকের বয়স। তবে কিছু স্থানে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের চালকেরও দেখা মিলছে। এরা প্রতি নিয়ত ঘটাচ্ছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। এতে নিহত ও আহতের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তবে বেশির ভাগ দুর্ঘটনা পঙ্গুত্ব বরণ করছে যাত্রী বা চালকরা। সড়কের যানজট ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। দু'জন বসার যানে তারা ৫-৬ জন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করছে। নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশার যাতায়াতে ব্যাপক ঝুঁকি ও সংঘর্ষের সংঘাত হচ্ছে।

এছাড়াও এসব যানের চালকরা বিভিন্ন অপরাদমুলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। এদের মধ্য চুরি, ছিনতাই, মাদকবহন বেশি দেখা যাচ্ছে। অটোরিকশায় অবৈধ বিদ্যুৎ বিল এবং নিবন্ধনে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এতে সরকারের অবৈধ যানে বছরে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ে বন্ধ হচ্ছে।

যদিও রাষ্ট্রের পক্ষে বিদেশ থেকে এসব অটোরিকশা ও ইজিবাইক আমদানি হয়। দেশের গন্ডিতে এসে বৈধ আমদানি অবৈধ ও অপ্রশিক্ষণ চালকের হাতে অনিবন্ধিত থেকে যায়।

ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, উপজেলার করইতোলা বাজারে দ্রুতগামী অটোরিকশায় তার ব্যবহ্নত মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিলে মুহূর্তে শো-কাভার ভেঙ্গে যায়। এতে অল্পের জন্য বড় ধরণের দুর্ঘটনায় রক্ষা পান তিনি। নিয়ন্ত্রণ ও অদক্ষ প্রশিক্ষণহীন চালকের হাতে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে এসব অবৈধ ও অনিবন্ধিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকগুলো। এদের কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। জরিমানা ও জেল দিয়েও এসব চালক ও অটোরিকশা ও ইজিবাইক গুলো থামানো যাচ্ছে না।

জেলা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর প্রশান্ত মজুমদার বলেন, অটোরিকশা ও ইজিবাইক গুলো সড়কে সম্পূর্ণ অবৈধ যান। এদের চালকের নেই কোন লাইসেন্স বা প্রশিক্ষণ। এসব যানগুলোও অবৈধ নিবন্ধনহীন। এরা সড়কে মারাত্মক হুমকি ও যানজট বৃদ্ধি করছে। যাত্রী এসব যান থেকে নিরাপদ নয়। এসব অবৈধ যান বন্ধ করা দরকার।

জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শফিউল আলম বলেন, প্রতি বছর এসব অবৈধ অনিবন্ধিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকে প্রতিদিন গড়ে ১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হলে সারাদেশে কত কোটি টাকার বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে..? কোটি কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ অবচয়ে লোডশেডিং বৃদ্ধি পাচ্ছে। রামগতি-কমলনগরে যদি ৭হাজার অটোরিকশা ও ইজিবাইক থাকে তাহলে বছরে প্রায় আড়াই কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ অপচয় হচ্ছে। এসব অবৈধ অনিবন্ধিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক বন্ধ করলে বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং বন্ধ হয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত