বৈশ্বিক গণতন্ত্রের দরজা খুলে দেবে পোস্টাল ভোট বিডি

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:১৪ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটদানের জন্য চালু হলো মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ‘পোস্টাল ভোট বিডি’। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে এ অ্যাপটির উদ্বোধন করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন।

এদিকে গতকাল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলকে  (বাসদ-মার্ক্সবাদী) আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল ইসি সচিব আখতার আহমেদ নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ উদ্বোধনের সময় নির্বাচন কমিশনের সচিবালয়ে সিনিয়র সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর প্রতিনিধি, দেশের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও নারী নেতারা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ও শিক্ষকরা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে অনলাইনের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও মিশনের প্রতিনিধিরা। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিবন্ধনকৃত সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে দেশের সব বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, নির্বাচন কমিশনের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, সিনিয়র জেলা নির্বাচন অফিসার, জেলা নির্বাচন অফিসার, উপজেলা ও থানা নির্বাচন অফিসাররাও উপস্থিত ছিলেন।

সিইসি বলেন, এর মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বিদেশে অবস্থানরত প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ বাংলাদেশের নাগরিক জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আজকের এ উদ্বোধনের মাধ্যমে আমরা কেবল একটি অ্যাপ চালু করছি না, আমরা একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করছি। যেখানে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ভৌগোলিক নয় বৈশ্বিক। পোস্টাল বোট বিডি আমাদের সেই বৈশ্বিক গণতন্ত্রের দরজা খুলে দিচ্ছে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এ উদ্যোগ বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। আর আমাদের প্রবাসী নাগরিকদের রাষ্ট্রের সঙ্গে বন্ধনকে আরও গভীর করবে।

তিনি জানান, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রের মালিক জনগণ এ মালিকানাবোধ ভৌগোলিক সীমার মধ্যে আবদ্ধ নয়। প্রবাসীরা যেমন দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখেন, তেমনি গণতন্ত্রেও তাদের অংশগ্রহণ জরুরি।

সিইসি আরও বলেন, মাত্র তিন মাসে অ্যাপ তৈরি ও উদ্বোধন করা একটি দুঃসাহসিক কাজ ছিল। বিভিন্ন দেশ, ডাক বিভাগ, সাইবার নিরাপত্তা ও প্রবাসীদের সচেতনতা এসবই বড় চ্যালেঞ্জ। তা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের নিয়ে সব গ্যাপ পূরণ করে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন, ডাকযোগে ব্যালট পাবেন এবং ব্যালট পূরণ করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাতে পারবেন। তাদের ভোট সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে।

সিইসি জানান, বিদেশি দূতাবাস, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি, আইএফইএস, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এমআইএসটি এবং আইসিটি প্রতিষ্ঠানগুলো প্রকল্পে সহযোগিতা করেছে।

ইসি সানাউল্লাহ জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালের নির্বাচনকে বলা হয় ‘সুপার ইয়ার অব ইলেকশন’, তবে ২০২৬ সালের বাংলাদেশের নির্বাচন বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় বলে বিবেচিত।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসীদের ভোটাধিকার আইনে থাকলেও তা কার্যকর করা হয়নি। নির্বাচনী ব্যবস্থার এই সীমাবদ্ধতা দূর করতে কমিশন ৫ ডিসেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১১ দিনের মধ্যে প্রবাসী ভোটের ওপর গবেষণা ও পদক্ষেপ শুরু করে। প্রধান উপদেষ্টার ১৬ ডিসেম্বরের ভাষণ এ উদ্যোগকে নতুন গতি দিয়েছে।

তিনি জানান, বিশ্বব্যাপী প্রবাসী ভোটের ছয়টি পদ্ধতির মধ্যে তিনটি পদ্ধতিকে শর্টলিস্ট করা হয় আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট, প্রক্সি ভোটিং এবং অনলাইন ভোটিং। রাজনৈতিক দলের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে কেবল পোস্টাল ব্যালট পদ্ধতিতে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জুন মাসে বুয়েটের অধ্যাপক মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়, যা পদ্ধতিটি ফাইন-টিউন করে কার্যকরী বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করে। প্রকল্পের মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে রয়েছে স্মার্ট রেজিস্ট্রেশন, ব্যালট ট্র্যাকিং, ডেটা এনক্রিপশন, ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট ড্যাশবোর্ড এবং সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট। এ ছাড়া, ওসিভি (আউট অব কান্ট্রি ভোটিং) উইং স্থাপন করা হয়েছে, যা পরে ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোটের সঙ্গে সংযুক্ত হয়।

সানাউল্লাহ জানান, প্রবাসী ভোটারদের জন্য ‘সিম্বল ব্যালট’ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটাররা প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর মোবাইল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতীক দেখে ভোট দেবেন এবং ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠাবেন। প্রতিটি খাম ব্যক্তিনির্দিষ্ট ও ট্র্যাকযোগ্য, যা ভোটের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ ব্যয়বহুল হলেও, একক ভোট সংগ্রহে আনুমানিক ৭০০ টাকা খরচ হবে, যা বেসরকারি কুরিয়ারের মাধ্যমে করলে ৫ হাজার টাকার বেশি পড়ত। বিশ্বব্যাপী প্রবাসী ভোটারের নিবন্ধনের হার মাত্র ২.৭ শতাংশ হওয়ায় সচেতনতা বৃদ্ধি এবং উদ্বুদ্ধকরণ অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটের গ্লোবাল ওয়েস্টেজ রেট ২৪ শতাংশ এবং সাইবার নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বের সঙ্গে দেখাশোনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এ উদ্যোগ একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ও পবিত্র উদ্যোগ। প্রবাসীসহ সব ভোটারের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এটি বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমরা আজ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উদ্বোধন করতে যাচ্ছি পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপ, যা দেশের ভেতরে এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার পথে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের অংশগ্রহণ। আর ভোটাধিকার সেই অংশগ্রহণের মূল চাবিকাঠি। কিন্তু নানা দায়িত্ব পালন এবং অবস্থানগত কারণে দেশের অভ্যন্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কিংবা বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকরা ভোটকেন্দ্রে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেন না। একটি পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এসব ভোটারের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট ভোটদান ব্যবস্থা চালু করেছে।

অ্যাপ ব্যবহারের সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে এখন থেকে নির্ধারিত তারিখ পর্যন্ত প্রবাসী ও নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত দেশীয় ভোটাররা অনলাইনে সহজেই নিবন্ধন করতে পারবেন। অ্যাপে নিবন্ধিত ভোটাররা ডাকযোগে ব্যালট পাবেন এবং ভোট প্রদান করে ফিরতি ডাকে তা রিটার্নিং অফিসারের কাছে প্রেরণ করবেন।

এ উদ্যোগকে গণতন্ত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সচিব বলেন, এ উদ্যোগ শুধু একটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন নয়; এটি বাংলাদেশের সর্বজনীন ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের মাইলস্টোন হিসেবে বিবেচিত হবে।

পোস্টাল বিডি অ্যাপটির মাধ্যমে ইসির বেঁধে দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা আজ বুধবার থেকে আগামী রবিবারের (২৩ নভেম্বর) মধ্যে ভোটের জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন।

‎উত্তর আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে বসবাসরত বাংলাদেশিরা ২৪ থেকে ২৮ নভেম্বর, ইউরোপে বসবাসরতরা ২৯ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে, সৌদি আরবের বাংলাদেশিরা ৪ থেকে ৮ ডিসেম্বর, দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিরা ৯ থেকে ১৩ ডিসেম্বর, মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব বাদে অন্যান্য দেশের বাংলাদেশিরা ১৪ থেকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট দিতে নিবন্ধন করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে বসবাসরতরা ১৯ থেকে ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন করতে পারবেন বলে জানিয়েছে ইসি।

গতকালের অ্যাপটি উদ্বোধনের পর থেকেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটাররা তাদের নাম, ঠিকানা এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে পারবেন এবং ভোটার তালিকায় নিজেদের নাম ওঠাতে পারবেন।

এ অ্যাপটি শুধু প্রবাসীরা নন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ভোটাররাও ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশি ভোটাররা, নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ব্যক্তিরা, নিজ ভোটার এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি চাকরিজীবীরা এবং আইনি হেফাজতে থাকা ভোটাররাও এ সুযোগ পাবেন।

নিবন্ধন পেল এনসিপি ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলকে (মার্ক্সবাদী) আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের কথাও জানিয়েছেন ইসি সচিব আখতার আহমেদ। গতকাল বিকেলে নির্বাচন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ১৪৩টি দল এবার নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল। ১২১টি দলকে নামঞ্জুর করেছি। শেষ পর্যন্ত দাবি আপত্তি আহ্বান করে (এনসিপি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-মার্ক্সবাদী ও আম জনগণ পার্টি) তিনটি দল নিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম। এর ধারাবাহিকতায় কিছু আপত্তি পেয়েছি আম জনগণ পার্টির বিষয়ে। তাই বাকি দুই দলকে নিবন্ধন দেওয়া হচ্ছে।

ইসি সচিব আরও বলেন, রিভিউয়ের জন্য ১৪টি দল আবেদন করেছে। প্রথম ধাপে নামঞ্জুর হওয়া দল থেকে ৭টি এবং ২২টি দলের মধ্য থেকে নামঞ্জুর হওয়া দল থেকেও ৭টি দল। এসব দলের বিষয়ে অধিকতর পর্যালোচনা ও তদন্ত চলছে।

আখতার আহমেদ জানান, বাংলাদেশ বেকার মুক্তি পরিষদ, গণতান্ত্রিক পার্টি, জাসদ-শাহজাহান সিরাজ, জাতীয় জনতা পার্টি, জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি, আমজনতার দল ও জনতার দল এই দলগুলোর তথ্য পুনর্বিবেচনায় আনা হয়েছে। এদের তদন্ত হবে।

গণভোটের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত গণভোট নিয়ে কোনো নির্দেশনা কমিশন পায়নি। নির্দেশনা পাওয়ামাত্রই তা জানানো হবে এবং সেই অনুযায়ী কর্মপরিকল্পনাও জানিয়ে দেওয়া হবে।

রোডম্যাপের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, কর্মপরিকল্পনার আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং পর্যবেক্ষক সংস্থা চূড়ান্ত করার কাজে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও এখন এসব কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হয়েছে এবং ধারাবাহিকভাবে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

দেশে ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। তালিকা অনুযায়ী ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন ও নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩৪ জন।

গতকাল এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

সচিব বলেন, গত ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত যাদের বয়স ১৮ হয়েছে, তাদের নিয়ে ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। চূড়ান্ত হিসাবে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এসব ভোটার আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা অনুযায়ী পুরুষ ভোটার বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং নারী ভোটার বৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ১৬ শতাংশ।

গত ৩ নভেম্বর হালনাগাদ খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল ইসি। সেই খসড়া অনুযায়ী, ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছেন ৬ কোটি ৪৭ লাখ ৬০ হাজার ৩৮২ জন, নারী ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার ৭৭২ জন এবং ১ হাজার ২৩০ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত