অপসোনিনে শ্রমিকদের দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৩১ এএম

অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যালে স্টোরিপ্যাক বিভাগের ৪৪৪ শ্রমিক ছাঁটাই কেন্দ্র করে দুই পক্ষের শ্রমিকের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পুনর্বহালের দাবিতে চাকরিচ্যুত শ্রমিকরা টানা ১৮ দিন ধরে বগুড়া রোড আটকে সড়ক অবরোধ করে রেখেছেন, অন্যদিকে কাজে যোগ দিতে আসা শ্রমিকদের বাধা দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের ধাক্কাধাক্কি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। এর ফলে ফ্যাক্টরির উৎপাদন বন্ধ, ডেঙ্গুর মৌসুমে স্যালাইন সংকটের আশঙ্কা, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি, সব মিলিয়ে বগুড়া রোড ও আশপাশের এলাকায় নিত্যদিনই সৃষ্টি হচ্ছে স্থবিরতা ও তীব্র যানজট। পরিস্থিতি বর্তমানে উত্তেজনাপূর্ণ এবং অবরোধও এখন চলমান।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টায় ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগ দিতে আসেন শ্রমিকরা। কিন্তু আন্দোলনকারীরা তাদের কাজে যোগ দিতে বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিজেরাই নিয়ন্ত্রণে আনেন শ্রমিকরা। পরে দুই পক্ষ অপসোনিন ফ্যাক্টরির সামনের তিন রাস্তার মুখ আটকে পুরো বগুড়া রোডের যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং সড়ক অবরোধ করে দিনভর অবস্থান নেন। যা সন্ধ্যা ৬টার সময়ও চলমান দেখা গেছে।

এদিকে দুপুরে ঘটনাস্থলে মালিকপক্ষ থেকে অপসোনিন ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেডের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার অনিন্দ কুমার গণমাধ্যমকে জানান, শ্রম আইন মেনে স্টোরিপ্যাক বিভাগের ৪৪৪ জন শ্রমিককে অবসান দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ শ্রমিক তাদের পাওনা বুঝে নিয়েছেন। কিন্তু কিছু শ্রমিক ও বহিরাগত অন্য বিভাগের শ্রমিকদের কাজে যোগ দিতে বাধা দিচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, এতে কোম্পানির উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন বন্ধ থাকলে সামনে সংকট সৃষ্টি হবে।

এদিকে কাজে যোগ দিতে চাওয়া আইভি ফ্লুইড বিভাগের শ্রমিকরা জানান, সকালে তারা কোম্পানিতে ঢুকতে গেলে আন্দোলনকারীরা তাদের বাধা দেয়। যাদের চাকরি রয়েছে তারা যেন কাজে যোগ দেওয়ার সুযোগ না পান। এ দাবি জানান তারা।

শ্রমিক সুমন বলেন, ‘আমাদের কোম্পানি কাজে যোগ দিতে বলেছে। কিন্তু চাকরিচ্যুতরা আমাদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। এখন বহিরাগতরাও আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। আমরা স্যালাইন তৈরির কাজ করি। গত ১৮ দিন ধরে ফ্যাক্টরি বন্ধ। ডেঙ্গুর এই সময় স্যালাইন খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভোর ৬টায় এসেছি, তখন চাকরিচ্যুতরা আমাদের আঘাত করেছে। আমরা এখন সড়কে অবস্থান নিয়েছি। কোম্পানি আমাদের ছুটি দেয়নি। এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধান চাই।’

শ্রমিক মৌদুত আহমেদ বলেন, ‘১৭ দিন ধরে এই রাস্তা ব্লক করা আছে। এমন অবস্থায় ফ্যাক্টরি চলতে পারে না। প্রায় এক হাজার শ্রমিক আমাদের কী হবে? কোম্পানি যাদের ছাঁটাই করেছে তাদের অনেককে পাওনা বেতন দিয়ে দিয়েছে। তার পরও তারা বহিরাগতদের নিয়ে বিক্ষোভ করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত