ভারতকে হারানোর পর শ্রীমঙ্গলের পৈতৃক ভিটায় শমিত সোম

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৫, ০৬:২৮ পিএম

জাতীয় দলের জার্সিতে মঙ্গলবার ভারতকে হারানোর পর প্রথমবারের মতো পৈতৃক ভিটা শ্রীমঙ্গলের দক্ষিণ উত্তরসুরের সোমবাড়িতে আসেন কানাডা প্রবাসী শমিত সোম। তার আগমনকে ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আমেজ। বুধবার সকাল থেকে বাড়ির সামনে ভিড় করেন স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা। ফুলেল শুভেচ্ছা আর উচ্ছ¡াসে বরণ করে নেন সবাই এই তরুণ তারকাকে।

ঘরে ফেরার মুহূর্তে আবেগাপ্লুত শমিত সোম বলেন,“জাতীয় দলের হয়ে খেলা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আর সেই খেলার পর নিজের মানুষের ভালোবাসা—এটা সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি।”

শমিতের বড় বোন মেনকা সোম দেশ রূপান্তর-কে জানান, “ভাইকে জাতীয় দলে খেলতে দেখা আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার। সে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারতকে হারাবে। তবে মনে এক ধরনের ভয়ও ছিল—কারণ বাংলাদেশ অনেক সময় তীরে এসে তরি ডুবায়। কিন্তু এবার সে প্রতিশ্রুতি রাখায় আমরা খুবই আনন্দিত।”

এলাকাবাসী বলেন, কানাডা থেকে এসে জাতীয় দলে খেলা শমীত সোম এখন শ্রীমঙ্গলের গর্ব। তার সাফল্যে স্থানীয় তরুণদের মাঝে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।
শমিতের পিসি শান্তা বিশ্বাস। তিনি বলেন,“শমিত মাঠে নামার আগে আমরা সবাই প্রার্থনা করেছিলাম যেন বাংলাদেশ জয় পায়। ম্যাচ জেতার পর থেকে পুরো বাড়িতেই আনন্দের ছড়াছড়ি। উত্তেজনায় রাতে কেউ ঠিকমতো ঘুমাইনি।”

শমীতের কাকা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহন সোম বলেন, “আমরা যুদ্ধ করে বিজয় এনেছিলাম। আজ আমার ভাতিজা খেলায় বিজয় এনে দিয়েছে—এটা আমাদের পরিবারের জন্য বিশাল গর্ব।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন শমিত সোম। ছবি: দেশ রূপান্তর

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শমিত সোম বলেন, “এখানে আগেও এসেছি, কিন্তু জাতীয় দলে খেলার পর এটাই প্রথম আসা। ক্লান্ত লাগছে, তবে সবার ভালোবাসায় মন ভরে গেছে। ২২ বছর পর ভারতকে হারানো—এটা আমাদের জন্য বিশেষ সাফল্য। দলের সবাই বিশ্বাস রেখেই খেলেছিল, তাই জয় এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “সিজন শেষে ছুটি পাওয়া গেছে, তাই বাড়িতে এলাম। দাদু মানিক সোম ভালো ফুটবলার ছিলেন—এটা শুনেছি, তবে তাকে দেখার সুযোগ পাইনি। আমার ফুটবল প্রতিভার উৎস ভাবতে গিয়ে দাদুর কথা মনে পড়ে যায়—এটা আমার কাছে বিশেষ কিছু।”

দলের পরিবেশ নিয়ে শমিত বলেন, “আমাদের টিম এখন খুব ভালো। সবার সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক। ভবিষ্যতে আরও ভালো করার সুযোগ আছে। নতুন অনেক তরুণ খেলোয়াড় এসেছে এবং ওরা বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ। বাফুফেও আমাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে।”

তরুণ খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তিনি বলেন,“বাংলাদেশে অনেক ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে জাতীয় দলে উঠতে পারবে। আমাদের বয়স বাড়ার পর তারাই দল সামলাবে। তাই এখন থেকেই প্রস্তুতি জরুরি।”

বাড়িতে প্রিয় খাবারের কথাও জানান এই তরুণ ফুটবলার বলেন “বাড়িতে আলু ভাজা, পেপে ভাজা, ইলিশ ভাজা, পোলাও—এসব খুব পছন্দ। এগুলো খাওয়ার অপেক্ষায় আছি।”
স্থানীয়দের প্রত্যাশা—আগামী দিনে শমিত সোম দেশের ফুটবলে আরও বড় ভূমিকা রাখবেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে লাল-সবুজের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল করবেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত