বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছে: গোলাম পরওয়ার

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:৫০ পিএম

তালিম প্রোগ্রামে বিএনপি নেতা–কর্মীদের বাধা প্রদানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বিএনপি এখন আওয়ামী লীগের ভাষায় কথা বলছে। 

আওয়ামী লীগ ইসলামী গণজাগরণ ঠেকাতে যেমন বিভিন্ন সময় জামায়াত–শিবিরকে কখনও রাজাকার, কখনও জঙ্গি ট্যাগ দিত—ঠিক তেমনি বিএনপিও এখন সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। 

তারা বর্তমানে মাহফিলে বাধা দেয়, মা–বোনদের তালিম প্রোগ্রামে বাধা দেয়। এটি করে তারা জামায়াতকে নয়, মূলত ইসলামকে বাধাগ্রস্ত করছে। এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা–৫ আসনের আটরা–গিলাতলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত মহিলা ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ইসলাম প্রতিষ্ঠায় পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। হযরত সুমাইয়া (রা.) ছিলেন মহিলা সাহাবীদের মধ্যে প্রথম শহীদ। 

আম্মাজান আয়েশা (রা.) যুদ্ধক্ষেত্রেও অংশ নিয়েছেন। তাই ন্যায়, ইনসাফ ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে নারীদের এগিয়ে আসতে হবে। 

প্রতিদিন সকাল–বিকেল গ্রুপভিত্তিকভাবে মহিলা অঙ্গনে দাঁড়িপাল্লা মার্কার দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে। পুরুষেরা যেমন পুরুষদের কাছে, নারীরা তেমনি নারীদের কাছে ইসলামী রাষ্ট্র গঠনে দাঁড়িপাল্লা মার্কার পক্ষে দাওয়াত দেবেন। 

তাহলে আমরা সবাই মিলে ইসলামী রাষ্ট্র গড়তে পারব—ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজকে সুখ–শান্তিময় করতে ইসলামী অনুশাসন প্রয়োজন। রাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু হলে সব ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের মানুষ সুখে–শান্তিতে বসবাস করতে পারবে। 

ন্যায় ও ইনসাফের সঙ্গে দেশ পরিচালিত হবে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও দখলদারিত্ব থাকবে না। একমাত্র ইসলামই সকল মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। 

তাই আগামী নির্বাচনে ইসলামপন্থী আলেম–ওলামা ও আল্লাহভীরু ব্যক্তিদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রে মানুষের সুখ–শান্তি নিশ্চিত হয়।

ওয়ার্ড সভাপতি মো. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুনসী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল গাওসুল আযম হাদী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্যা। 

সেক্রেটারি মো. কামরুল গাজীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন খানজাহান আলী থানা আমির ডা. সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, সেক্রেটারি গাজী মোর্শেদ মামুন, জামায়াত নেতা মো. সুলতান মাহমুদ, মো. মোশারফ হোসেন, নূর ইসলাম গাজী ও মো. রানা আকুঞ্জী প্রমুখ।

এর আগে শিরোমণির বিল ডাকাতিয়া গ্রামে ‘জান্নাতের টিকিট’ বিক্রির অভিযোগে বিরোধীদের করা অপপ্রচারের জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াত কখনো মানুষের কাছে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করে না। তবে আল্লাহ মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত হওয়ার জন্য পবিত্র কুরআন পাঠিয়েছেন। 

কুরআনে বলা আছে কোন কাজগুলো করা উচিত এবং কোনগুলো বর্জন করতে হবে। আমরা মানুষের কাছে সেই নির্দেশনাই পৌঁছে দিই। বিরোধীরা কুরআন না বোঝার কারণে ভুল তথ্য ছড়ায়। তিনি এ ধরনের অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবার সুযোগ এসেছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন। যেখানে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আছে সেখানে তাকেই ভোট দিতে হবে; আর যেখানে ইসলামী জোটের প্রার্থী আছে সেখানে জোটের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে।

একটি দলের নাম উল্লেখ না করেই তিনি অভিযোগ করেন, ওই দলের মহাসচিব বলেছেন, ইসলামী শরীয়াহ আইন তারা কায়েম করবে না। তারা বলে কুরআনে রাজনীতির কথা নেই। 

কিন্তু কুরআনের পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা ছাড়া এসব বোঝা সম্ভব নয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মদিনার ইসলাম কি দাড়ি কেটে বা গান–বাজনার ইসলাম? যারা শরীয়াহ মানে না, তারা কিভাবে মদিনার ইসলামের অনুসারী দাবি করে?

বিএনপির সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ইসলামী পথে কাজ করলেই কেউ কেউ বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখায়। তাঁর দাবি, ইসলামী আন্দোলনের জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই অস্থির হয়ে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আপনি যদি একটি মার্কায় কাজ করতে পারেন, আমিও অন্য একটি মার্কায় কাজ করার অধিকার রাখি। আত্মীয়–স্বজন, পাড়া–প্রতিবেশীদের প্রতিদিন বোঝান যে আল্লাহর আইনের পক্ষে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে হবে।”

রাতে তিনি সাজিয়াড়া শামসুল উলুম মাদরাসার ১০৫তম বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত