রাজসাক্ষীকে জেরা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে উত্তাপ

আপডেট : ২১ নভেম্বর ২০২৫, ০৫:১৫ এএম

জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার আশুলিয়ায় ছয়জনকে গুলি করে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) শেখ আবজালুল হককে জেরার সময় প্রসিকিউটর এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে গত সোমবার এ মামলায় জবানবন্দি দেন পুলিশের সাবেক এসআই (উপপরিদর্শক) আবজালুল। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট তিনি ঊর্ধ্বতনের অনুমতি ছাড়াই আশুলিয়া থানা ত্যাগ করেন এবং ১৫ আগস্ট ফিরে আসেন। তিনি জানতে পেরেছেন, আশুলিয়া থানার সাবেক ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) এ এফ এম সায়েদ ও এএসআই বিশ^জিত পেট্রোল ঢেলে ছয় লাশ পোড়ানোর ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চের দুই বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

গতকাল জেরায় আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান রাজসাক্ষী আবজালুলকে প্রশ্ন করেন, থানায় এসে তিনি (আবজালুল) কোনো পুলিশ সদস্যের মারা যাওয়ার বিষয়টি শুনেছেন কি না। তবে, আইনজীবীর এমন প্রশ্ন নিয়ে আপত্তি তোলে প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম বলেন, রাজসাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে, কিন্তু তাকে এ ধরনের প্রশ্ন করা যাবে না। এ নিয়ে উভয় পক্ষের দুই আইনজীবীর মধ্যে তর্কাতর্কি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে ট্রাইব্যুনালের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিনের জেরা শেষে রবিবার পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে আদালত। জানতে চাইলে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, কোনো একটি বিষয়ে সাক্ষীকে জেরা করা যাবে কী যাবে না, সে বিষয়ে উভয় পক্ষে কিছুটা বিরোধ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য ছিল, যে বিষয়টি জবানবন্দিতে সাক্ষী বলেননি এবং এই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়, তার ওপর জেরা করা যায়। কাজেই জেরাতে আমরা আপত্তি জানিয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত