গাজায় টানা দুই বছরের ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এক লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি। নিহতদের প্রায় ২৭ শতাংশই ১৫ বছরের কমবয়সী শিশু এবং প্রায় ২৪ শতাংশ নারী। জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউটের নতুন গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই বছরের ইসরায়েলি আগ্রাসনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে পুরো গাজা উপত্যকা। ফিলিস্তিনি কর্র্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এরইমধ্যে ৬৯ হাজারের বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। তবে প্রাণহানির এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে জার্মানির ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট। গবেষণা প্রকল্পের কো-লিডার ইরিনা চেন জানান, বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সঠিক মৃতের সংখ্যা নিরূপণের চেষ্টা চলছে। সরকারি হিসাবের বাইরে বিপুল মৃত্যু নথিভুক্ত না হওয়ায় প্রকৃত চিত্র আরও বড় হতে পারে বলেও দাবি তার।
গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, দুই বছরে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৯৯ হাজার ৯৯৭ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৫-এর মধ্যে। গড় হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৬৯ জন। গবেষণা দল বিভিন্ন উৎসের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে। গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যের পাশাপাশি স্বাধীন পরিবারভিত্তিক সমীক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মৃত্যুসংবাদও বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গবেষকদের ব্যাখ্যা, নারী ও বয়স্কদের মৃত্যুর তথ্য অনেক সময় আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত হয় না। ফলে সরকারি হিসাব প্রকৃত পরিস্থিতি তুলে ধরে না।
যুদ্ধ গাজাবাসীর জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের আগে নারীদের গড় আয়ু ছিল ৭৭ বছর আর পুরুষদের ৭৪ বছর। কিন্তু ২০২৪ সালের বিশ্লেষণ বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে নারীদের প্রত্যাশিত আয়ু কমে হয়েছে ৪৬ বছর এবং পুরুষদের ৩৬ বছর। এই পরিসংখ্যান চলমান সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি স্পষ্ট করে। গবেষণার সামগ্রিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি হিসাবের বাইরে গাজার সাধারণ মানুষের মৃত্যুঝুঁকি বাস্তবে আরও ভয়াবহ। দীর্ঘমেয়াদে এই যুদ্ধ মানবিক বিপর্যয়কে আরও তীব্র করে তুলছে।
