ভারতের ‘হাউস অব হররস’ মামলার আসামী খালাস

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ১১:২৯ এএম

প্রায় দুই দশক আগে ভারতের দিল্লি রাজ্যের নয়ডার কুখ্যাত 'হাউস অব হররস' থেকে ১৯ নারী ও শিশুর দেহাবশেষ উদ্ধার করার পর যে মামলাটি পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল, সেটি আবার আলোচনায় এসেছে—কারণ দোষী সাব্যস্ত দু’জনের একজন, সুরিন্দর কোহলি, এবার খালাস পেয়ে জেল থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

১২ নভেম্বর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে বাকি থাকা শেষ মামলাতেও বেকসুর খালাস দেয়। আদালত রায় দেয়, তাঁর স্বীকারোক্তি—যার মধ্যে নরখাদ্য ও মৃতদেহের প্রতি বিকৃত আকর্ষণের অভিযোগও ছিল—নির্যাতনের মাধ্যমে আদায় করা হয়েছিল, তাই তা গ্রহণযোগ্য নয়।

২০০৬ সালের সেই ঘটনা ভারতে বিশাল ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। ব্যবসায়ী মনিন্দর সিংহ পাণ্ডের বাড়ির পাশ থেকে মানুষের দেহাংশ উদ্ধার হওয়ার পর পাণ্ডে ও তার গৃহকর্মী কোহলিকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। দু’জনই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হিসেবে বহু বছর জেলে ছিলেন। পর্যাপ্ত প্রমাণ না থাকায় পাণ্ডে ২০২৩ সালে মুক্তি পান; কোহলির খালাসের মধ্য দিয়ে ভারতের সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ তদন্তগুলোর একটি কার্যত শেষ হয়ে গেল।

শীর্ষ আদালত তদন্তকারী সংস্থা ও পুলিশের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে অবহেলা, বিলম্ব এবং গুরুত্বপূর্ণ সূত্র অনুসন্ধানে ব্যর্থতায় ভরপুর ছিল তদন্ত। এমনকি নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের কমিটি যে লাশ পাচারের দিকটি তদন্ত করতে বলেছিল, সেটিও উপেক্ষা করা হয়েছে। বিচারকদের ভাষায়, তদন্তকারীরা “সহজ পথ” বেছে নিয়ে এক গরিব চাকরকে দায়ী করেছেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের দিকে নজর দেননি।

অধিকাংশ ভুক্তভোগী পরিবার, যারা পাশের বস্তি থেকে এসেছিলেন, মনে করেন তাদের ন্যায় বিচার দেওয়া হয়নি। কেউ কেউ এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে সরাসরি আবেদন জানাতে চান। 

তবে আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাদের বিকল্প এখন খুবই সীমিত। পরিবারগুলো সুপ্রিম কোর্টের কাছে পুনঃতদন্তের আবেদন করতে পারে, কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মদন লোকুরের মতে, এত সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তদন্তের প্রমাণ প্রায় বিলীন—তাই এ ধরনের তদন্ত ফলপ্রসূ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত