পিটিআই সর্থকদের ওপর হামলা, অভিযোগ দিলেন ইমরানের বোন

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৪৫ পিএম

গত সপ্তাহে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলের বাইরে পিটিআই সমর্থকদের ওপর ‘নৃশংস হামলা’ চালানোর অভিযোগে পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) ড. উসমান আনোয়ারের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন পিটিআই প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের বোন নুরীন নিয়াজি।

কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তিন বোন এই ‘নৃশংস’ হামলার ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ইমরানের বোনরা— নুরীন নিয়াজি, আলীমা খান এবং ড. উজমা খান— গত এক মাস ধরে ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না পেয়ে অন্যান্য পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সদস্যদের সঙ্গে আদিয়ালা জেলের বাইরে অবস্থান নিয়েছিলেন।

তারা জেলের বাইরে বসে ছিলেন যখন পুলিশ হঠাৎ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং নির্বিচারে নির্যাতন চালায়। পিটিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি’ করাই ছিল তাদের অপরাধ।

পাঞ্জাব পুলিশের আইজি উসমান আনোয়ারের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ইমরানের বোনরা বলেন, সহিংসতা ছিল ‘নৃশংস ও পরিকল্পিত এবং বিনা উস্কানিতে পুলিশের দ্বারা সংঘটিত।’

পিটিআইয়ের দাবি, আলীমা খান, ড. উজমা খান এবং নুরীন জেলের বাইরে ‘শান্তিপূর্ণভাবে বসেছিলেন’। তখন পুলিশ তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং ‘হিংস্রভাবে আটক’ করে।

দলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মীরা, আলীমা ও উজমা নুরীনের পাশে জড়ো হয়েছেন। ভিডিওতে তাকে আতঙ্কিত দেখা গেছে। ‘ওই মহিলারা তাকে রাস্তা ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল,’ আলীমা বলেন, এসময় নুরীনের হাত কাঁপছিল।

দলটি দুই পৃষ্ঠার চিঠিটিও শেয়ার করেছে, যেখানে নুরীন ঘটনাটিকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সহিংসতাটি ছিল ‘নৃশংস ও পরিকল্পিত’ এবং বিনা উস্কানিতে হামলা করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘৭১ বছর বয়সে, আমাকে চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়, নির্মমভাবে রাস্তা দিয়ে টেনে নেওয়া হয় এবং চোখে দেখা যায় এমন আঘাত পাই।’

নুরীন আরও জানান, অন্যান্য নারীকে চড় মারা হয়, টেনে হিঁচড়ে নেওয়া হয়, এবং শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের ভ্যানে তুলে নিয়ে গিয়ে রাতের অন্ধকারে দূরবর্তী এলাকায় ফেলে আসা হয়।

তিনি বলেন, ‘অন্য একটি প্রদেশের মন্ত্রী ও নির্বাচিত প্রতিনিধিরাও এই সহিংসতার শিকার হওয়ায় রাজনৈতিক সৌহার্দ্যের ভয়াবহ অবক্ষয় এবং বৈধ রাজনৈতিক অভিব্যক্তি দমনে প্রাদেশিক পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার স্পষ্ট হয়।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত