রানা-ইমরোজে স্বার্থের সংঘাত দেখছে এনএসসি

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৩ এএম

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্বাচিত হওয়া জোবায়দুর রহমান রানার জন্য ছিল সময়ের ব্যাপার। ৩০ নভেম্বর নির্বাচনে মহাসচিব পদে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় আছে শুধু তার নাম। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটাই শুধু বাকি। এ অবস্থায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ২৫ নভেম্বরের এক চিঠি সব হিসাব উল্টে দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনারের কাছে ক্রীড়া পরিষদের সচিব (ক্রীড়া) মোহাম্মদ আমিনুল এহসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়েছে সরকার গঠিত সার্চ কমিটির আহ্বায়ক রানা ও এর সদস্য মেজর ইমরোজ আহমেদের বিওএ নির্বাচনে অংশ নেওয়া এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে একটা স্বার্থের সংঘাত (কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট) ঘটতে যাচ্ছে।

বিওএর যারা কাউন্সিলর হয়েছেন, সেই ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্তাদের বেশির ভাগের নিয়োগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সার্চ কমিটির। যার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন রানা ও ইমরোজ। এ অবস্থায় তাদের বিওএতে নির্বাচন করাকে ভালো চোখে দেখছে না খোদ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। রানা এই নির্বাচনে মহাসচিব পদে একমাত্র প্রার্থী। আর ইমরোজ সহসভাপতি প্রার্থী, পদের সমান প্রার্থী হওয়ায় এখানেও ভোটাভুটি হচ্ছে না। দুজনই আবার কাউন্সিলর হয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির কোটায়।

নির্বাচন কমিশনারকে নির্দেশ করে ২৫ নভেম্বরের চিঠিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ লিখেছে, ‘উপর্যুক্ত বিষয়ের পরিপ্রেক্ষিতে জানানো যাচ্ছে, দেশের ক্রীড়াঙ্গনে বিদ্যমান ক্রীড়া ফেডারেশন/অ্যাসোসিয়েশন/বোর্ড সংস্থাগুলোর ‘কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে ০১-১০-২০২৪ তারিখে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্র্তৃক ৫ সদস্যের গঠিত সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ৪৯টি ক্রীড়া সংস্থার ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন মো. জোবায়েদুর রহমান এবং সদস্য হিসেবে মেজর (অব.) ইমরোজ আহমেদ ছিলেন। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৫-এ বিওএ সভাপতির কোটায় ইমরোজ আহমেদ সহসভাপতি পদে এবং রানা মহাসচিব পদে একমাত্র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।  বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাউন্সিলর তালিকায় ওই সার্চ কমিটির গঠিত ২৫টি জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি থেকে দুজন করে ৫০ জন, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে দুজন, আলাদাভাবে তিনটি ফেডারেশন থেকে আরও তিনজন প্রতিনিধিসহ ৫৫ জন সদস্যকে কাউন্সিলর হিসেবে রাখা হয়েছে।

এমতাবস্থায়, ইমরোজ আহমেদ এবং জোবায়েদুর রহমান রানার বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৫-এ অংশগ্রহণ করা কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট (স্বার্থের সংঘাত) হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি তার সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অবহিত করা হলো।’

চিঠিটির অনুলিপি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক ও চেয়ারম্যানের একান্ত সচিবের কাছেও পাঠানো হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে এ রকম নির্দেশনামূলক চিঠিপ্রাপ্তির পর গঠিত নির্বাচন কমিশন কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে সেটাই দেখার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত