ঢাকা–১৮ আসনে ধানের শীষের পক্ষে জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগে একটি বৃহৎ গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর তিনটায় রাজধানীর উত্তরা আজমপুর আমীর কমপ্লেক্স মার্কেটসংলগ্ন ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়।
এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং বিভিন্ন থানার বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে জনসমাগম জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
গণমিছিলে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান। তিনি বলেন, “ধানের শীষ এখন জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এই গণমিছিল প্রমাণ করে—ঢাকা–১৮-এর মানুষ পরিবর্তন চায়। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। যারা এই ঐক্য নষ্ট করতে চায় তারা বিএনপি ও গণমানুষের শত্রু।”
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন। তিনি বলেন, “বিগত সময় আমরা রাজপথে ছিলাম, এখনো রাজপথে আছি। যারা আজ এখানে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি, তারাই রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী। অন্যায়–অত্যাচারের দায় বিএনপি নেবে না। কোনো অন্যায়কারীর দায়ভার দল বহন করবে না।”
তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান—ঢাকা–১৮ আসনে স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার জন্য।
যুগ্ম আহ্বায়ক এম. কফিল উদ্দিন বলেন, “ঢাকা–১৮ আসনের প্রতিটি ওয়ার্ডে ধানের শীষের পক্ষে জাগরণ তৈরি হয়েছে। আজকের এই গণমিছিল সেই জাগরণেরই বহিঃপ্রকাশ। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমরা মাঠে থাকব—যতক্ষণ না স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী পাই।”
অন্যদিকে যুগ্ম আহ্বায়ক আফাজ উদ্দিন বলেন, “ঐক্যবদ্ধ বলেই উত্তরায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সফল হয়েছিল। এই ঐক্য ভবিষ্যতেও বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে। দলের নীতিনির্ধারকদের প্রতি অনুরোধ—কোনো অন্যায়কারী, চাঁদাবাজ, আশ্রয়দাতা বা গডফাদারকে মনোনয়ন দিলে সাধারণ মানুষ তা মেনে নেবে না।”
তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যে একজন মনোনয়নপ্রত্যাশীর কিছু অনিয়ম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাকে বলছি—জনসমক্ষে ক্ষমা চান। দল যদি ক্ষমা করে, তাহলে আপনি রাজনীতিতে থাকতে পারবেন।”
গণমিছিলে অংশ নিতে দুপুর থেকেই বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এলাকায় জড়ো হন। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পুরো এলাকা।
