জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার জাতীয় নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। এমন প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব কি না প্রশ্ন তোলেন এই জামায়াত নেতা।
রবিবার বিকালে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আটদলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নির্বাচনের শিডিউল করলেও সেই নির্বাচন সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ হবে কিনা এই প্রশ্ন জাতির সামনে দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। যে দেশে প্রকাশ্যে কোর্টের সামনে গুলি করে হত্যা করা হয় সেই প্রশাসন নির্বাচন দায়িত্বে থাকলে ভোটের দিন ভোট ডাকাতি হবে না, ভোট কেন্দ্রে হত্যা হবে না, আমাদের জান মালকে তারা খুন করে ভোটাধিকার লুট করতে চাইবে না, তার কোন গ্যারান্টি নাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলব, প্রধান উপদেষ্টাকে বলব, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রক্ষা করুন। সব দল যেন সমান অধিকার পায়। কোন দলকে বড় মনে করবেন, কোন দলকে গোপনে ক্ষমতায় আনার স্বপ্ন দেখবেন, মনে রাখবেন ফ্যাসিবাদকে যেভাবে আমরা বিদায় করেছি তেমনি পরিণতি হবে।
জাতীয় নির্বাচনের আগেই গণভোট, পিআর পদ্ধতিসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলনরত জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ৮ দলের রাজশাহী বিভাগীয় এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর দুইটা থেকে এই সমাবেশ শুরু হয়।
সমাবেশে যোগ দিতে দুপুর একটার পর থেকে রাজশাহীর সমাবেশে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিও নেতা কর্মীরা মিছিল নিয়ে সমাবেশ মাঠে যোগ দিতে শুরু করেন।
পাঁচ দাবিতে ৮ দলের আন্দোলনে বিভাগীয় পর্যায়ে রাজশাহীতেই প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলো। পরবর্তিতে দেশের সবগুলো বিভাগীয় শহরেই সমাবেশ করবে সমমনা ৮ দলীয় জোট।
সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা স্বাধীনতার ৫৪ বছরে তিনটি দলকে দেশ শাসন করতে দেখেছি। সামরিক শাসন প্রায় আট নয় বছর আর রাজনৈতিক দল বাকি সময় মিলে ৫৪ বছর দেশ শাসন করেছেন। দলের নাম উল্লেখ না করেও যদি বলি তিনটি দলের প্রত্যেকটি শাসনের সময় বাংলাদেশের দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছিল। তারা সন্ত্রাস করেছে লুটপাট করেছে চাঁদাবাজি করেছে। ভিন্ন মত দমন করেছে, আলেম-ওলামা পীর মাশায়েক ইসলামী আন্দোলনের নেতাদেরকে কারাগারে পুরে, রিমান্ডে, ক্রসফায়ারে, আয়নাঘরে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, ইসলামী জাতিসত্তা মূল্যবোধকে তারা ধ্বংস করেছে। তাই আমাদের এই আট দলের সমাবেশের সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে আমরা একটি পরিবর্তনের বার্তা বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে পৌঁছে দিতে চাই। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকব এবং আমরা খবর পাচ্ছি এই আট দল আর আট দলে থাকছে না বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এখন আট দলের এই মিছিলে শরিক হওয়ার জন্য আবেদন করতেছে, এই দল আরো বাড়বে।
একটি দলকে চান্দা পার্টি উল্লেখ করে আগামী নির্বাচনে জনগণ বুলেটের জবাব ব্যালটে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ সভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান। তিনি বলেন, আল্লাহ ছাড় দেয় ছেড়ে দেয় না, রাকসু নির্বাচন তার প্রমাণ। তিনবার গণভোট হয়েছে, একবারও নির্বাচনের দিন হয়নি। নির্বাচনের দিন গণভোটের নজির ইতিহাসে নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, একইদিনে গণভোট ও নির্বাচন চ্যালেঞ্জের বিষয়। যারা আয়োজন করবেন তারা বুঝে গেছেন, কিন্তু বিএনপি বুঝেনি। জনগণ বুঝে গেছে কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার বুঝে নাই৷
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে চিনেছে, গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু তার গণহত্যার বৈধতা দেওয়া জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করা হয়নি৷ অবিলম্বে ১৪ দলকে নিষিদ্ধ করুন।
সমাবেশে ৮ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
