দৃষ্টিহারা পরিবারের গান গেয়ে পেট চালানো বন্ধ!

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:১১ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি পরিবার, যাদের সবাই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। বিভিন্ন স্থানে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা। কিন্তু পরিবারটির গান গাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। চার দিন ধরে তারা নির্ধারিত স্থান পৌর মুক্তমঞ্চে গান গাইতে পারছেন না। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে গান গেয়ে জীবিকা নির্বাহী করত ওই পরিবারটি।

পরিবারের প্রধান ব্যক্তি হেলাল মিয়া জানান, গত বুধবার তারা প্রতিদিনের মতো গান করছিলেন। এরই মধ্যে কয়েকজন এসে গান গাইতে বাধা দেন। যে দলই ক্ষমতায় আসুক তাদের এখানে গান গাইতে দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। বাউল শিল্পী আবুল সরকারের কথাও এ সময় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তাদের ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতে বলা হয়। তবে কে বা কারা এসে বাধা দিয়ে গেছেন, এ বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামের হেলাল পরিবারে ১৩ জন সদস্য। এর মধ্যে ৯ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। উপার্জনক্ষমদের মধ্যে তিনি নিজে, চার ছেলে ও এক মেয়ে চোখে দেখেন না। তবে তারা কারও কাছে হাত পাতেন না। গান গেয়ে যে আয় হয়, তা দিয়ে চলে তাদের ১৫ জনের বড় সংসার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর মুক্তমঞ্চে প্রতিদিনই দেখা মিলত দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী এই পরিবারটির। এখানে বসেই তারা গান গেয়ে শোনান। গানে খুশি হয়ে টাকা দেওয়ার অনুরোধ করেন। প্রতিদিন এক-দেড় হাজার থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত তারা আয় করতেন।

হেলাল মিয়ার বয়স ৬৫ পেরিয়েছে। সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের গানের শিল্পী শাহনূর শাহর কাছ থেকে হেলাল মিয়া সংগীতের প্রশিক্ষণ নেন ছেলেবেলাতেই। মাত্র ১০-১২ বছর বয়স থেকেই গান করে বেড়াতেন। পরে সন্তানদেরও গান শেখান। ৫০ বছর ধরে হেলাল মিয়া ও পরে তার পরিবারের সদস্যরা পৌর মুক্তমঞ্চে গান করতেন।

হেলাল মিয়া বলেন, ‘আমরা ভয়ে এখন এখানে গান করছি না। ৫০ বছর ধরে গান গাইলেও এমন হয়নি। এখন এমন কোনো জায়গাও পাচ্ছি না যে গান গাইব। গান গেয়ে আয় করতে না পারলে আমাদের সংসার চলা কঠিন হয়ে পড়বে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি সভাপতি ও পৌরসভার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি অন্ধ পরিবারটি বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছি। কিছু উচ্ছৃঙ্খল ছেলে নাকি অন্ধ পরিবারকে বাধা দিয়েছে। আমি পরিবারটিকে বলেছি আবার বসতে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত