আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম সহমর্মিতা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:৩৯ এএম

সহমর্মিতা, সুন্দর ও সহজ একটি শব্দ। ছোট্ট এই শব্দের ভেতর লুকিয়ে আছে মানবতার মর্মকথা। এটি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। অন্যের দুঃখে কষ্ট পাওয়া, কারও বিপদে পাশে দাঁড়ানো, ক্ষুধার্তকে আহার করানো বা অসহায়কে সাহায্য করা, এ সবই সহমর্মিতার অন্তর্ভুক্ত।

ইসলাম এমন এক সমাজব্যবস্থা গঠন করতে চায়, যেখানে ধনীরা দরিদ্রদের পাশে দাঁড়াবে, শক্তিশালীরা দুর্বলদের রক্ষা করবে এবং সবাই একে অপরের কল্যাণে নিয়োজিত থাকবে। সহমর্মিতাই হবে সমাজের ভিত্তি।

কোরআনের আলোকে সহমর্মিতা : সহযোগিতা ও সহমর্মিতা জান্নাতি লোকদের বৈশিষ্ট্য। জান্নাতিরা যেসব আমলের কারণে নেয়ামতপ্রাপ্ত হবে, সেগুলোর অন্যতম হলো সহমর্মিতার গুণ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা (নেক বান্দারা) আল্লাহর ভালোবাসায় মিসকিন, এতিম ও বন্দিদের খাবার দান করে। (এবং তাদের বলে) আমরা তো তোমাদের খাওয়াই কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। আমরা তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান ও কৃতজ্ঞতা চাই না।’ (সুরা দাহর, আয়াত ৮-৯)

মানুষের প্রতি সহমর্মী না হওয়ার পরিণতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তারা (সৎকর্মশীলরা) থাকবে জান্নাতে, তারা জিজ্ঞেস করবে জাহান্নামিদের, কোন জিনিস তোমাদের জাহান্নামে নিয়ে এসেছে? তারা (জাহান্নামিরা) বলবে, আমরা নামাজি ছিলাম না এবং আমরা মিসকিনদের খাবার দিতাম না।’ (সুরা মুদ্দাসসির, আয়াত ৪০-৪৪)

হাদিসের আলোকে সহমর্মিতা : হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) সহযোগিতা ও সহমর্মিতা বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেন, ‘যে দয়া করে না, তার প্রতিও দয়া করা হয় না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯৯৭)

পারস্পরিক সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব, মহব্বত, সহযোগিতা ও সহমর্মিতা মুসলমানদের বৈশিষ্ট্য। এগুলো জান্নাতে যাওয়ার জন্য শর্তও বটে।

আল্লাহর সন্তুষ্টি : সহমর্মিতা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমানদারের পার্থিব কোনো বিপদাপদ দূর করে দেবে, মহান আল্লাহ কেয়ামত দিবসে তার বিপদ দূর করে দেবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্ত লোকের দুর্দশা লাঘব করবে, আল্লাহ ইহকাল ও পরকালে তার দুর্দশা লাঘব করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষত্রুটি গোপন রাখবেন। বান্দা যতক্ষণ তার ভাইয়ের সাহায্য-সহযোগিতায় নিয়োজিত থাকে, আল্লাহও ততক্ষণ তাকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে থাকেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস ২৬৯৯)

মহানবী (সা.)-এর জীবনে সহমর্মিতার অসংখ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে। তিনি ক্ষুধার্তকে আহার দিয়েছেন, অসুস্থদের দেখতে গেছেন, গরিব ও দুঃখীদের সান্ত্বনা দিয়েছেন। এমনকি শত্রুর প্রতিও করুণা দেখিয়েছেন।

আজকের সমাজ থেকে এই সহমর্মিতা যেন দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। স্বার্থপরতা, পরশ্রীকাতরতা, প্রতিযোগিতা ও উদাসীন মনোভাবের কারণে মানুষ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অথচ সহমর্মিতা যদি সমাজের প্রতিটি স্তরে জাগ্রত হয় তাহলে সামাজিক বৈষম্য দূর হবে। জাত-শ্রেণি, দুর্বল ও সবলের ভেদাভেদ বিদূরিত হবে। সমাজের সর্বত্র শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে। এ সবের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত গোটা সমাজে ছড়িয়ে পড়বে। মহান আল্লাহ সবাইকে সহমর্মিতা চর্চা করার তওফিক দিন। আমিন।

লেখক : মুহাদ্দিস, জামিয়া আরাবিয়া দারুস সুন্নাহ রাজাবাড়ী, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত