সোনাগাজীতে পুলিশ ও সাংবাদিকের ভয় দেখিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে হেনস্তা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:০২ পিএম

‘এই দরজা খুল, না হয় দরজা ভেঙ্গে ফেলব। সাংবাদিক পুলিশ ডেকে এনে তোকে ঘর থেকে বের করব’ এমনি হুংকার দিয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে হেনস্তা করা অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাটি ফেনীর সোনাগাজীতে গত সোমবার গভীর রাতে উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামে ঘটেছে।

বুধবার দুপুরে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন ও সিদ্দিকুর রহমান একই এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী গৃহবধু বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে অবস্থান করছে। দুই সন্তান ও শাশুড়িকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করি। গত ৫-৬ মাস ধরে এলাকার কয়েকজন বখাটে আমাকে হয়রানি শুরু করে। রাস্তার পাশে বসতঘরের অবস্থানের কারণে তারা গভীর রাতে দরজা জানালায় টোকা দিয়ে নানা আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। কখনো কখনো আপত্তিজনক কথা বলে দরজা খোলার চেষ্টা করেছে। আত্মীয় স্বজন ও মেহমান বেড়াতে আসলে তাদেরকে নিয়ে কটুক্তি করেছে। তাদেরকে বাপ ভাই ডেকে এসব না করার অনুরোধ করলেও তারা শুনেনি। এত হয়রানীর পরও  নিজ ও স্বামী সন্তানদের মান সন্মানের কথা বিবেচনা করে মুখ বুজে সহ্য করেছি।

তিনি আরো বলেন, গত সোমবার সাদ্দাম ও ছিদ্দিক তাদের দলবল নিয়ে গভীর রাতে দরজা জানালায় আঘাত করে দরজা খুলতে বলে। বাড়িতে মেহমান রয়েছে জানিয়ে আমি তাদের আহবানে সাড়া না দিলে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে বিভিন্ন অশ্লীল ভাষায় কটুক্তি করতে থাকে। তারপরও দরজা না খোলাতে তারা পুলিশ ও সাংবাদিক ডেকে আনার ভয় দেখিয়ে হেনস্তা করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য আলী মেম্বার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী আমাদেরকে তাকে হেনন্তা হয়রানি করার বিষয়টি অবহিত করেছেন। তিনি থানায় অভিযোগ করার উদ্যোগ নিলে অভিযুক্তরা তাদের আত্মীয় স্বজনকে সাথে নিয়ে প্রবাসীর পরিবারের কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।

সোনাগাজী মডেল থানার উপপরিদর্শক পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, রাত্রীকালিন দায়িত্ব পালনকালে ডিউটি অফিসারের ফোন পেয়ে ওসি স্যারকে অবগত করে ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে বুঝতে পারি অভিযুক্তরা পুলিশকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছে। পরে তাদের সতর্ক করে আমরা থানায় ফিরে যায়।

বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সিএনজি ড্রাইভার সিদ্দিকুর রহমান ও সাদ্দাম হোসেনর মুঠোফোনে কল দিলে ব্যবহৃত নম্বরগুলো বন্ধ পাওয়া যায়। তাদেও বাড়িতে খোঁজ করেও যোগাযোগ করা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় বহু অভিযোগ থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস করনো। মুলত চাঁদা আদায়ের জন্য ঠুনকো অভিযোগ এনে অভিযুক্তরা ওই গৃহবধুকে দীর্ঘদিন ধরে হেনস্তা করছে। এলাকাবাসী সব জানলেও মানসন্মান হারানোর ভয়ে চুপ রয়েছে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত