নরসিংদীতে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে ‘আহত ৩৫’, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৫৪ পিএম

নরসিংদীতে বিএনপির অঙ্গসংগঠন তাঁতীদলের নেতাকর্মীদের সাথে জামায়াতের নেতাকর্মীদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে জামায়াতের ৩০ জনসহ দুই পক্ষের ৩৫ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছেন দুই পক্ষ। তবে পুলিশ বলছে, মারামারির ঘটনায় ৫ জন আহত হয়েছে।

এদিকে ঘটনা নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপি-জামায়াত। বুধবার সন্ধ্যায় নরসিংদীর মেহেরপাড়া মাজার বাসস্ট্যান্ড নিহার উদ্দিন চেয়ারম্যান মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছে জামায়াত।

এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত হয়েছেন মেহেরপাড়া ইউনিয়ন তাঁতীদলের সভাপতি বখতিয়ার হোসেন ও ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক দুখু মিয়া। তাদেরকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, নরসিংদীর মেহেরপাড়া মাজার বাসস্ট্যান্ড নিহার উদ্দিন চেয়ারম্যান মার্কেটের সামনে জামায়াতের নির্বাচনী সভা চলছিল। ওই সভায় বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে কিছু বক্তব্য রেখেছেন এক বক্তা। বিষয়টি নিয়ে মেহেরপাড়া ইউনিয়ন তাঁতীদলের সভাপতি বখতিয়ার হোসেন প্রতিবাদ জানায়। এই নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সভা শেষে মারামারিতে জড়িয়ে পরে দুই পক্ষ।

ঘটনার পর পরই জামায়াতের নির্বাচনী সভায় হামলার অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ও নরসিংদী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আমজাদ হোসাইন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেছেন, নরসিংদী-২ (পলাশ) নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতের নির্বাচনী সভায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় ছাত্রশিবিরসহ ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর জামায়াতের ৩ নেতাকর্মী নিখোঁজ বলেও দাবি করেন তিনি।

বুধবার (৩ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় নরসিংদী শহরের ব্রাহ্মন্দীতে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বুধবার সন্ধ্যায় মেহেরপাড়া ইউনিয়নের শেখেরচর বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত সভায় ইউনিয়ন তাঁতীদল নেতা বখতিয়ার হোসেন বখতিয়ারের নেতৃত্বে এ হামলা হয়।

তিনি আরো বলেন, শুরু থেকেই বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ওই সভায় বাধা সৃষ্টি করছিলেন। তার বক্তব্য চলাকালীন মঞ্চের পেছনে গিয়ে গালিগালাজও করেন তারা। স্থানীয় লোকজনের হস্তক্ষেপে প্রথমে তারা সেখান থেকে সরে গেলেও সভা শেষে ফের ৭০-৮০ জন বিএনপির নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরমধ্যে ৭ জনকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো জামায়াতের হামলায় বিএনপির ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইউনিয়ন বিএনপি। মেহেরপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অব্দুর রশিদ মিয়া জানান, বিএনপির সাথে জামায়েতের কোন সংঘর্ষ হয়নি। সেখানে জামায়েতের একটি প্রোগ্রাম থেকে বিএনপিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াতের এক নেতা। সেখানে মেহেরপাড়া ইউনিয়ন তাঁতীদলের সভাপতি বখতিয়ার হোসেনের দোকান। তিনি বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানান। পরে প্রোগ্রাম শেষে তারা এসে বখতিয়ারের ওপর আক্রমণ করে। ওই সময় তাকে বাঁচাতে তার ছেলেসহ কয়েকজন এগিয়ে আসে।

পরে জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় তারা আহত হয়। এদের মধ্যে বখতিয়ারসহ ২ জনের অবস্থা গুরুতর। মুমূর্ষু অবস্থায় বখতিয়ারসহ ২ জনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, জামায়াতের একটি সভায় বিএনপিকে নিয়ে নানা কথাবার্তা বলছিল। সেটা বিএনপির লোকজন পজিটিভলি নেয়নি। তাৎক্ষণিক বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানায় তাঁতীদল নেতা। এই নিয়ে দুই পক্ষ কথাকাটাকাটি ও মারামারিতে জড়ায়। এতে ৫ জনের মতো আহত হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত