নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, দেশের সংকট উত্তরণে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের কোনও বিকল্প নেই। যুগপৎ আন্দোলনের শরীকদের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বাড়তে দেওয়া সমীচীন হবে না। সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে গণতন্ত্র মঞ্চের উদ্যোগে 'বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম' শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তিনি একথা বলেন।
সভার শুরুতেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করা হয় এবং দেশের মানুষের কাছে দোয়া প্রার্থনা করা হয়।
জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানি জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু।
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে যে জাতীয় নির্বাচন হবে তাতে কারও সন্দেহ নেই। এই নির্বাচনে আমরা বিএনপির সাথে যুগপৎ ধারায় আসন সয়ঝোতা করে প্রতিদ্বন্ধিতা করব। যদিও বিএনপির সাথে এখনও আমাদের এই ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনও আলোচনা হয়নি। তবে আসন সমঝোতা নিয়ে বিএনপির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর আমরা মঞ্চগতভাবে সিদ্ধান্ত নেব নির্বাচন তাদের সাথে করব, নাকি আমরা মঞ্চগতভাবে করব। তবে আমাদের ৩০০ আসনে নির্বাচন করার প্রার্থী প্রস্তুত করা আছে।
সাইফুল হক বলেন, একটি বিশেষ দল ও গোষ্ঠি নির্বাচনকে প্রলম্বিত করতে, বানচাল করতে নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা না করে বেশীরভাগ দলগুলোর মতামত উপেক্ষা করে আরপিও সংশোধন করে গ্যাজেট প্রকাশ করেছে। এটা বিশেষ কোনও দলকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার জন্যই করা হয়েছে কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে। সরকারও এখন পর্যন্ত নিরপেক্ষতার প্রমাণ দিতে পারেনি। সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটা বোঝাপড়া থাকা দরকার। তা না হলে আগামী নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত ইসলামসহ অন্যান্য দল যখন তাদের বন্ধু ও মিত্র বাড়াতে খুলনার কৃষ্ণপদ পর্যন্ত চলে গেছেন, বিএনপি তখন তার যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সাথে অপ্রয়োজনীয় মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব তৈরি করছে। এভাবে চলতে থাকলে এই মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব একসময়ে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রাজনৈতিক দূরত্বে পর্যবসিত হতে পারে। এটা সমীচীন হবে না।
জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের এই পরিস্থিতিতে দ্রুত একটা অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া সমাধান হবে না। নির্বাচনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকার ও নির্বাচন কমিশনের। বিএনপির সাথে আমাদের আসন সমঝোতা যাই হোক আমাদের নিজেদের মতো, নিজেদের শক্তির ওপর দাঁড়িয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। আমরা আমাদের ৩০০ আসনের প্রার্থী ঘোষণা করব।
শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে জামায়াত ইসলাম ব্যাপক অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তারা মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশকে রাজাকারদের বাংলাদেশ বানাতে চায়। গণতন্ত্র মঞ্চ এবং মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে থাকতে তাদের এই অপতৎপরতা, স্বাধীনতাবিরোধী, দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড কখনও বাস্তবায়িত করতে দেওয়া হবে না।
সভাপতির বক্তব্যে শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর দেশ এখন একটি দক্ষিণপন্থি এবং নতুন করে নব্য লুটপাটকারীদের দখলে চলে গেছে। তারা দেশে স্থিতিশীলতা চায় না, নির্বাচন চায় না। বিএনপিও গণতন্ত্র মঞ্চের সাথে যুগপৎতের শরীক হিসাবে অভ্যুত্থানের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে যাচ্ছে না সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, ভাসানি জনশক্তি পার্টির মহাসচিব ড. আবু ইউসুফ সেলিম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডির সহসভাপতি তৌহিদ হোসেন, গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমণ্ডলী সদস্য বাচ্চু ভূইয়া।
শহীদ জিয়ার বিএনপি ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটছে: শিবির সভাপতি
খালেদা জিয়ার বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী হাসিনা: রাশেদ খাঁন
ইঞ্জিন বিকল হয়ে সমুদ্রে ভাসমান ৪৫ যাত্রীসহ বোট উদ্ধার
রুট ১৩৫* স্টার্ক ৬/৭১—ওভারে ৪.৩৯ রান করে ইংল্যান্ড তুললো ৩২৫