ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ‘তুই’ বলাকে কেন্দ্র করে সিনিয়র ও জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার খাড়েরা মোহাম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের উপস্থিতিতে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে।
এতে কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ একজন শিক্ষক আঘাতপ্রাপ্ত হন। পরে সকল শিক্ষকের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়। এ সময় নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার থেকে পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম আহমেদ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে। দুপুর দেড়টার দিকে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলার সময় ‘তুই’ সম্বোধন করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দশম শ্রেণির বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হয় এবং তাকে মারধর করে। এরপর দুই শ্রেণির অধিকাংশ শিক্ষার্থীরাই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে।
এক শিক্ষার্থীকে অপর শিক্ষার্থী হাতের লাঠি দিয়ে মারতে উদ্যত হলে উপস্থিত শিক্ষক শাহিন আহমেদ থামাতে গেলে ওই লাঠি তার শরীরে লাগে। এক পর্যায়ে দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ছুরি-চাকু হাতে একে অপরের ওপর হামলার চেষ্টা করে, তখন বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকরা এসে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ বন্ধ হলেও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা আজকের চলমান পরীক্ষাসহ সকল পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করে। পরে শিক্ষকরা বিষয়টি অভিভাবকদের জানালে তারা এসে উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের বাড়িতে নিয়ে যান।
নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী রাজন আহমেদ বলেন, আমাদের শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওপর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অহেতুক হামলা চালায়, তাই আমরা নবম শ্রেণির সকল শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করেছি। এর বিচার না হলে আমরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করব না।
এ বিষয়ে খাড়েরা মোহাম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তারেক মাহমুদ বলেন, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা দুপুরে পরীক্ষার আগ মুহূর্তে হঠাৎ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা শান্ত হয়। যারা সংঘর্ষে জড়িয়েছে তাদের পরীক্ষা থেকে বিরত রেখে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের পরীক্ষা পরে নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, খাড়েরা মোহাম্মদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
