শীতের প্রকোপ বাড়তেই পটুয়াখালীর দুমকিতে লেপ-তোষক তৈরির কাজ চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। উপজেলার হাট-বাজার ও গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় কারিগররা পুরনো লেপ খুলে তুলা ধুনন, নতুন মতো সাজানো আর নতুন লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পিরতলা বাজার, রাজাখালি, বোর্ড অফিস, আংগারিয়াবন্দর , লেবুখালি, হাজির হাটসহ বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, লেপ-তোষক কারিগরদের তুলা ধুনন, কাপড় কাটা ও সেলাইয়ের কাজের ব্যস্ততা। কারিগরের দোকান ও অস্থায়ী কর্মস্থলে ভিড় করছেন ক্রেতারা।
পিরতলা বাজারের ব্যবসায়ী কালাম বিশ্বাস বলেন, শীত এলেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। কিন্তু এবার তুলা ও কাপড়ের দাম বেশি। গার্মেন্টস তুলা কেজি ৫০ থেকে ১৬০ টাকা, শিমুল তুলা ৪০০ টাকা। লেপ তৈরি করতে মজুরি লাগে ৩০০-৪০০ টাকা, তোষক ২৫০-৩০০ টাকা। খরচ বাড়ায় আগের মতো লাভ থাকে না।
তিনি জানান, নতুন লেপ তৈরির চেয়ে অনেক পরিবার পুরনো লেপ ধুনিয়ে নতুন কাপড়ে বানিয়ে নিচ্ছে। এতে খরচ কম পড়ছে বলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা এই পথেই ঝুঁকছেন।
রাজাখালি এলাকার গৃহিণী ঝর্ণা বেগম বলেন, নতুন লেপ বানাতে খরচ বেশি। তাই পুরনো লেপটা ধুনিয়ে কিছু নতুন তুলা মিশিয়ে বানিয়ে নিলাম। ভালোই হয়েছে, খরচও কম।
লেপ-তোষক বিক্রেতা সেলিম জানান, তুলার দাম বাড়ায় প্রস্তুত লেপ-তোষকের দামও বেড়েছে। তাই অনেকেই বিকল্প হিসেবে কম্বল কিনছেন। বাজারে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কম্বল পাওয়া যাচ্ছে, বিশেষ করে তুলনামূলক সস্তা কিছু চায়না কম্বলের চাহিদা বেশি।
শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধুনকরদের ব্যস্ততা আরও বাড়বে বলে জানান স্থানীয়রা। মৌসুমী এই কর্মচাঞ্চল্য দুমকির শীতকালীন চেনা এক দৃশ্যপট হিসেবে প্রতিবছরই ফিরে আসে।
