দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে ভারতের সহজ জয়ের নায়ক দুইজন—ওপেনার যশস্বী জয়সোয়াল এবং অভিজ্ঞ তারকা বিরাট কোহলি। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন দুজনের জন্যই ভিন্ন ভিন্ন কারণে। একদিকে জয়সোয়াল খেললেন ওয়ানডেতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি, অন্যদিকে টানা তৃতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সেই সুযোগ হাতছাড়া হলো কোহলির।
২৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত পেয়েছিল উড়ন্ত সূচনা। রোহিত শর্মা ও জয়সোয়াল মিলে তুলে ফেলেন ১৫৫ রানের দুর্দান্ত উদ্বোধনী জুটি। রোহিত ৭৫ রানে কেশব মহারাজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরার পরই ব্যাট হাতে নামেন কোহলি। কিন্তু যখন তিনি ক্রিজে আসেন, তখন দলের প্রয়োজন ছিল আর মাত্র ১১৬ রান—হ্যাটট্রিক সেঞ্চুরি করার মতো পর্যাপ্ত সময় বা বল কোনোটাই ছিল না।
তবু থেমে থাকেননি ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার। মাত্র ৪৫ বল খেলে ৬ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৬৫ রানে দলকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যান। টানা তিন ম্যাচে সেঞ্চুরি না পেলেও গড়েছেন নতুন উচ্চতা। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তাঁর সংগ্রহ ৩০২ রান—যা এই ফরম্যাটে এক সিরিজে তাঁর ক্যারিয়ার–সর্বোচ্চ।
অন্যদিকে, সিরিজের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত অর্জনটা জয়সোয়ালের। শুরুতে কিছুটা সাবধানী ছিলেন তিনি—প্রথম ৫০ রান করতে লাগে ৭৫ বল। কিন্তু পরের ৩৬ বলেই স্পর্শ করেন সেঞ্চুরি। এটি তাঁর ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই শতক পাওয়া বিরল ক্লাবে যুক্ত হওয়ার আরও এক ধাপ।
শেষ পর্যন্ত কোহলি–জয়সোয়ালের অপরাজিত জুটিতে ৩৯.৫ ওভারেই ৯ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে ভারত। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজ ২–১ ব্যবধানে নিজেদের করে নেয় রোহিত শর্মার দল।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪৭.৫ ওভারে ২৭০ রানে অলআউট হয়। কুইন্টন ডি কক খেলেন ৮৯ বলে ১০৬ রানের দারুণ ইনিংস, কিন্তু বাকিদের ব্যর্থতা দলকে বড় স্কোর থেকে বঞ্চিত করে। ভারতের হয়ে প্রসিধ কৃষ্ণা নেন সর্বোচ্চ ৪ উইকেট।
