হরিরামপুরে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষে কৃষকদের ব্যস্ততা

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:২৫ এএম

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় শুরু হয়েছে মুড়িকাটা বা কন্দ পেঁয়াজ চাষের প্রস্তুতি। একদিকে কৃষকরা নবান্নের আমন ধান কেটে ঘরে তুলছে, অন্যদিকে একই জমিতে  পেঁয়াজ আবাদে তৈরি করছেন জমি। কোথাও আগেই রোপণ শেষ, আবার কোথাও আমন কাটার পর চলছে জমি প্রস্তুতি। এলাকা জুড়ে কৃষকের ব্যস্ততা শুধুই পেঁয়াজ আবাদকে ঘিরে।

জেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা যায়, কেউ আমন ধান কাটছেন, কেউ ট্রাক্টর দিয়ে জমি তৈরি করছেন, আবার কেউ আগাম লাগানো পেঁয়াজে সেচ দিচ্ছেন।

বাল্লা ইউনিয়নের দক্ষিণ গোড়াইল গ্রামের কৃষক কালাম বেপারী বলেন, ‘এ বছর ৫ বিঘা জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ লাগাইছি। সাড়ে ৫ হাজার টাকা মণ দরে গুটি পেঁয়াজ কিনেছি। সব মিলিয়ে খরচ হবে দেড় লাখ টাকার মত। ফলন ভালো হলে প্রায় ৩০০ মণ পেঁয়াজ পাওয়া যাবে। বাজার দর যদি সহায়ক হয়, তাহলে লাভবান হতে পারেন। তিনি আরও বলেন, উৎপাদিত পেঁয়াজ কমপক্ষে দুই হাজার টাকা মণ হলে কৃষক বাঁচবে।’

ঝিটকা মধ্যপাড়ার কৃষক রমজান আলী জানান, ‘৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ লাগানো শেষ। এখন সেচ দিচ্ছি। কামলা, সার আর পানিতে খরচ অনেক বাড়ে। তবে ফলন আর বাজারদরের ওপরই লাভের সবকিছু নির্ভর করছে।’

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী,এ মৌসুমে হরিরামপুরে মুড়িকাটা বা কন্দ পেঁয়াজের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,১৪০ হেক্টর আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৯,৫১৬ টন। গত বছরের তুলনায় এ বছর আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং চলমান চাষাবাদ শেষে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, ‘হরিরামপুর বরাবরই কন্দ ও হালি পেঁয়াজ চাষের জন্য বিখ্যাত। এ মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলাতেও পেঁয়াজ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। কৃষকদের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’ এদিকে কন্দ পেঁয়াজ তোলা শেষ হলে একই জমিতে আবার হালি পেঁয়াজ চাষ করেন কৃষকরা। ফলে এক জমিতে তিন ফসলে আয়ের নতুন সম্ভাবনায় এই অঞ্চল ক্রমেই পেঁয়াজ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে।

(সিংগাইর, মানিকগঞ্জ)

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত